দুই দশক ধরে লাশঘরেই ময়নাতদন্ত

আজিজুল সঞ্চয়
আজিজুল সঞ্চয় আজিজুল সঞ্চয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কোনো মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ জানার একমাত্র পদ্ধতি হলো মরদেহের ময়নাতদন্ত করা। ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই কখন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তাও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়। আর এই ময়নাতদন্ত হয়ে থাকে দেশের হাসপাতালগুলোতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে মর্গ না থাকায় মরদেহ সংরক্ষণ কক্ষটিকেই (লাশঘর) মর্গ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুই দশক ধরে সেখানেই মরদেহের ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চলছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে মর্গের কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশেই লাশঘরের অবস্থান। অপরিকল্পিতভাবে বানানো সেই লাশঘরটি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হলেও সেটিকেই মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Brahmanbaria-Hospital

যদিও মর্গ হিসেবে ব্যবহারের জন্য জেলা শহরের মেড্ডা এলাকায় সদর হাসপাতালের নিজস্ব একটি স্থাপনা রয়েছে। তবে সেই স্থাপনা দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কাজেই বাধ্য হয়েই হাসপাতালের লাশঘরটি মর্গ হিসেবে ব্যবহার করে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রায় প্রতিদিনই জেলার নয়টি উপজেলার কোনো না কোনো স্থান থেকে মরদেহ আসে লাশঘরে। বেশিরভাগ মরদেহ নিয়ে আসে পুলিশ। কোনো কোনো দিন একাধিক মরদেহও আসে এই লাশঘরে। সেখানে ডোমরা মরদেহ কাটা-ছেঁড়ার পর চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করেন। তবে বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালের কয়েকজন আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ময়নাতদন্ত করে থাকেন বলে জানা গেছে।

এদিকে লাশঘরটিতে নেই কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা। মরদেহ ধোয়ার পর রক্ত ও পানি ছাড়া হয় লাশঘরের সামনের সরু ড্রেন দিয়ে। লাশঘরটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে হওয়ায় দুর্গন্ধের কারণে দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।

Brahmanbaria-Hospital

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক থাকলেও ময়নাতদন্ত কাজে ব্যবহারের জন্য আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই মর্গে। সাধারণত ২১ দিনের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তিন মাস সময় লেগে যায় প্রতিবেদন পেতে। আর অধিকাংশ মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে হয় বলে এই সেক্টরে চিকিৎসকরা আসতে চান না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। হাসপাতালের মর্গের স্থাপনাটি বেদখল হওয়ায় বাধ্য হয়ে লাশঘরে মায়নাতদন্ত করা হচ্ছে। বেদখল থাকা স্থাপনাটি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারসহ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি মর্গ স্থাপনের।

তিনি আরও জানান, আদালতে হাজিরা দেয়াসহ নানা কারণে অনেক চিকিৎসকই ময়নাতদন্ত করতে চান না। এ ক্ষেত্রে যদি চিকিৎসকদের প্রণোদনা দেয়া হয় তাহলে তারা এ কাজে উৎসাহ পাবেন।

এমবিআর/এমএস