হাসপাতালের সামনেই ডাস্টবিন, দুর্ভোগে রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজবাড়ী আধুনিক সদর হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন ড্রেন ও ভেতর যেন ময়লার ডাস্টবিন। দেখে মনে হয় পরিচ্ছন্ন কর্মী বা দেখভালের জন্য নেই কোনো কর্তৃপক্ষ।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নে হাসপাতাল ও পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এ ময়লা-আবর্জনা থেকে ডেঙ্গু ও এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। এছাড়া দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের পাশেই অবস্থিত রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সেখানে ১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। ময়লার গন্ধে তাদেরও ক্লাস করতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। পোহাতে হচ্ছে মশার চরম উৎপাত।

দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু পাননি কোনো প্রতিকার।

সরজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, রাজবাড়ীর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৭শ থেকে ১ হাজারের বেশি রোগী আউটডোর ও ইনডোরে চিকিৎসা সেবার জন্য আসেন। এছাড়া হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। পাশেই ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণ চলমান রয়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত ভাতসহ পুরো হাসপাতালের ময়লা জরুরি বিভাগের সামনের দিকে ফেলা হচ্ছে। যেখানে মশা-মাছির ভনভন শব্দসহ বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া ওয়ার্ডের ভবনগুলোর চারপাশের ড্রেনে দেখা গেছে নোংরা পানি ও ডাবের খোলসহ বিভিন্ন বর্জ্য এবং বড় বড় ঘাস। যেখানে মোনা যায় মশার ভনভন শব্দ। অপরদিকে হাসপাতাল সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরের রাস্তার সঙ্গে পৌর সভার ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় ড্রেন ভর্তি হয়ে ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা পানিতে ছোট ছোট মশা ও বিভিন্ন ধরনের পোকার দেখা মিলছে। এছাড়া ড্রেনের সঙ্গে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ। ড্রেনের দুর্গন্ধ ও মশার কারণে রাস্তা দিয়ে স্থানীয়দের হাঁটা ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে নানা সমস্যা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণের কিছু কাজ এখনও বাকি থাকায় খালে ময়লা জমে এ সমস্যা হয়েছে।

RAJBARI-HASSPATAL-1

স্থানীয়রা বলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা একটি জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। যেখানে রয়েছে জেলার একমাত্র আধুনিক সদর হাসপাতাল, কারিগরী মাধ্যমের সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য অফিস, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কিন্তু এ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা দেখে বোঝা যায় না, এটি দেশের প্রথম শ্রেণির একটি পৌর এলাকা। পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রেন যে কতদিন পরিষ্কার করে না, তা দেখলেই বোঝা যায়।

তারা বলেন, ড্রেনে ময়লা জমতে জমতে এখন পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের ময়লা জমে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যার কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসক, রোগী ও টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া এ ময়লা-আবর্জনা থেকে এডিস ও ডেঙ্গু মশার জন্ম হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার ও নির্মাণ সম্পন্নে পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসককে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি। এরপরও অবস্থার পরিবর্তনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, পৌরসভার ড্রেনের পাশেই তাদের কলেজ। ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানির দুর্গন্ধে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়। এছাড়া ওই ময়লা আবর্জনার কারণে মশার অনেক উৎপাত সহ্য করতে হয়। তারা ড্রেনের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন ও পরিষ্কার করে দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাত থেকে রক্ষার দাবি জানান।

রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, হাসপাতালে সবাই আসেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দিকে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছে। যেখানে পচা বাসি খাবারসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের ময়লা ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছি ভনভন করছে। এছাড়া হাসপাতালের চারপাশের ড্রেনগুলোতেও রয়েছে ময়লা, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। তাই এখনই সবার সচেতন হবার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহতাব উদ্দিন তৌহিদ বলেন, হাসপাতালের পাশের ড্রেনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। আর মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট বাকি আছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ড্রেনের বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন হবে। মশক নিধনে তিনি ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে দুই দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালিয়েছেন এবং পুরো ওয়ার্ডে মশার ওষুধও ছিটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

RAJBARI-HASSPATAL-1

রাজবাড়ী আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘাস কোনো সমস্যা না, একটু বড় হলেই কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কাজ শেষ হলে নির্দ্দিষ্ট একটি স্থানে ডাস্টবিন তৈরি করে সেখানে ময়লা ফেলা হবে। এর আগ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে বর্তমানে জরুরি বিভাগের কিছুটা দূরে ময়লা ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালের ড্রেন সব সময় পরিষ্কার রাখার জন্য চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সীমানা সংলগ্ন ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য পৌরসভাকে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। হাসপাতালের ভেতরের ড্রেনে যে পানি আছে, তাতে এডিস মশা জন্মে না। কারণ চলমান পানিতে কখনও ডেঙ্গু মশা হয় না। ডেঙ্গু যাতে না হয় সেদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে।

রুবেলুর রহমান/এমএমজেড/এমকেএইচ