অবশেষে কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উম্মেহানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঋণমুক্ত হতে কিডনি বিক্রির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মহারাজপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ভূমিহীন উম্মেহানি বেগম (৫৭)।

বিপদে পড়ে তিনি নাজিরপুর গ্রামীণ ব্যাংক, মৌখাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, মৌখাড়া ঠেঙ্গামারা, গ্রাম্য মহাজন হেলেনা ও কোহিনুরসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ ও চড়া সুদে টাকা নেন। তার ঋণের বোঝা এখন ৪ লাখ টাকা।

মহারাজপুর গ্রামের সোলায়মান আলীর পুকুরপাড়ে ছাপরা ঘরে থাকেন উম্মেহানি। স্বামী জাকারিয়া ৩০ বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর অসুস্থ ও অক্ষম হয়ে তার কাছে ফিরে এসেছেন। বেকার স্বামীকে নিয়ে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিজের অসুখের কারণে দিনমজুরের কাজও করতে পারছেন না উম্মেহানি। কুরআন শরীফ শিক্ষা দিয়ে যা আয় হয় তাতে তার সংসার চলে না। ওষুধ কিনতে পারেন না। কোনো উপায় না দেখে কিডনি বিক্রির জন্য বিভিন্নজনের দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন।

জানা যায়, আয় বাড়াতে বাড়িতে বয়লার মুরগির খামার করেছিলেন। কিন্তু তাতেও লোকসান গুনতে হয়। সর্বশেষ ৫টি ছাগল ছিল তার। সেই ছাগলও নিয়ে গেছেন ৫ হাজার টাকার পাওনাদার আরিফ হোসেন। একমাত্র ছেলে হারিস উদ্দিনকে কর্মসংস্থানের জন্য ২ লাখ টাকা ঋণ করে একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইলফোন কিনে দিলে সে ঢাকায় গিয়ে মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রীবহন করে। মেয়ে জুলিয়াকেও ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন উম্মেহানি। পায়ে ঘা হয়ে পচন ধরায় ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসার জন্য দেড়লাখ টাকা খরচ হয় তার। এসব খরচের টাকা জোগাতে গিয়ে ছেলের আয়ের পথ মোটরসাইকেলটি ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখার পরও এনজিও থেকে ঋণ করতে হয় তাকে। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি এসে পুনরায় আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ করে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান ভুট্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঋণগ্রস্থ উম্মেহানিকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ঋণে জর্জরিত উম্মেহানি বলেন, এতো মানুষের কিডনি বিক্রির খবর পাওয়া যায় অথচ আমার কিডনি কেউ নিচ্ছে না।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।