অভুক্ত মাকে সারাদিন তালাবদ্ধ রাখলেন ছেলেরা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ১২:০০ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

জমি জমা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সারাদিন ধরে অভুক্ত বৃদ্ধা মাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ মুরাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সারাদিন অভুক্ত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করেন। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার নাম হাজেরা বেওয়া (৯০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত বিশারদের স্ত্রী।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদ জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন হাজেরা বেওয়া। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ। চার ছেলেসন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আক্তারুজ্জামানের বাড়িতে থাকেন তিনি। চারজনের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। অন্য তিনজন মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

শনিবার সকালে জমি জমা নিয়ে ভাইদের মধ্যে আক্তারুজ্জামানের দ্বন্দ্ব হয়। এ ঘটনায় অন্য ভাইয়েরা তাকে মারধর করতে পারেন এমন আতঙ্কে মাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্ত্রীসহ অন্যত্র চলে যান আক্তারুজ্জামান। দুপুর গড়িয়ে গেলেও খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাচ্ছিলেন হাজেরা বেওয়া।

এক সময় বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। এরপর প্রতিবেশীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পালকে জানালে তিনি সেখানে পুলিশ পাঠান। পরে পুুলিশ গিয়ে তালা খুলে বৃদ্ধা হাজেরা বেওয়াকে উদ্ধার করে। তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার তাকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।

তবে এ ঘটনা স্বীকার করে বৃদ্ধার বড় ছেলে বাচ্চু মিয়া ওরফে টুলু বলেন, জমি নিয়ে আব্দুল মজিদের সাথে আক্তারুজ্জামানের দ্বন্দ্ব হয়েছে। তবে তার সাথে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বরং ছোট ভাইয়ের বাড়িতে তার মা থাকলেও তার কাছেই খাওয়া-দাওয়া করেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে তার অন্য ছেলেদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। তারা পরবর্তীতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন তদারকি করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেজাউল করিম রেজা/এমএসএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।