চালক ছাড়া ট্রেনের দায়িত্বে ছিলেন শ্রমিক লীগ নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নির্ধারিত চালক ছাড়াই ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীতে ট্রেন যাওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

চালক ছাড়াই রাজশাহী যাওয়া ওই ট্রেনের চালক আসলাম উদ্দিন খান মিলন ঈশ্বরদী রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। মূলত তাকে ঘিরেই চলছে সমালোচনা। তার অবহেলার কারণে এমনটি ঘটেছে।

বর্তমানে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় এ ধরনের অবহেলা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিস্মিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় শ্রমিক লীগের সিনিয়র তিনজন নেতা ট্রেনের চালক আসলাম উদ্দিনের সমালোচনা করে বলেছেন, চালকের চরম অবহেলার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

রোববার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরদী-পাবনা-রাজশাহী রেলপথে। এ ঘটনায় দায়ী তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

তারা হলেন- ঈশ্বরদী রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক লোকোমাস্টার (এলএম) আসলাম উদ্দিন খান মিলন, শ্রমিক লীগের একই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও ওই ট্রেনের সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) আহসান উদ্দিন আশা এবং ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) আনোয়ার হোসেন-২।

পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনে নিয়মিত রাজশাহী যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন, শিক্ষক আজিজুর রহমান, রাজশাহী কলেজের ছাত্র রাজিব ফেরদৌস বলেন, এভাবে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়তে পারতো। আমরা এখন আতঙ্ক নিয়ে পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতায়াত করছি। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক আসলাম উদ্দিন খান মিলন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নিজে ট্রেনে না উঠে তার সহকারী আহসান উদ্দিন আশাকে দিয়ে রোববার ট্রেনটি ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে রাজশাহী পাঠান। এ ঘটনাটি ট্রেনের গার্ড জানলেও তিনি রেল কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে সহকারী এলএমকে নিয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করেছেন।

এ খবর জানার পর বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল-মামুন ট্রেনের গার্ডকে এবং বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই লোকো) আশিষ কুমার চক্রবর্তী, চালক ও সহকারী চালককে বরখাস্তের করার নির্দেশ দেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পাবনা এক্সপ্রেস টেন ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে প্রতিদিন মাঝগ্রাম জংশন, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া স্টেশন হয়ে প্রথমে পাবনা স্টেশনে যায়। পাবনা থেকে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন হয়ে রাজশাহী যায়। ফিরতি সময়ে রাজশাহী স্টেশন থেকে পাবনা হয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে ফিরে আসে ট্রেনটি।

আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/এমকেএইচ