নেপথ্যে একটি পুকুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। মূলত ওই পুকুরটির ইজারা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। আদালতে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য আশুগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের বড়তল্লা মৌজার ৭২৮/৭২৯/৭৩২/৭৩৩ দাগের ১৫০ শতাংশ একটি পুকুরের মালিকানা রয়েছে ওই গ্রামের মুর্শিদ আলমসহ আরও ২০-২৫ জনের। সম্প্রতি ওই পুকুরটির পূর্বের দেয়া ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর পুকুর মালিকরা একত্রিত হয়ে যাত্রাপুর গ্রামের আজাদ মিয়াসহ তিনজনকে ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকায় সাড়ে পাঁচ বছরের জন্য পুকুরটি নতুন করে ইজারা দেন। ইজারা নেয়ার সময় পুকুরের মালিকানায় থাকা ইসহাক মিয়া, শাহজাহান মিয়া, হাজী কুতুব মিয়া, ধন মিয়া, তাজুল ইসলাম, সুমন ও কামালসহ আরও কয়েকজন অংশীদার উপস্থিত থাকলেও মুর্শিদ আলম উপস্থিত ছিলেন না। পুকুরটি ইজারা দেয়ার পাশাপাশি পুকুরে থাকা মাছগুলো ধরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে গত ৫ অক্টোবর ভোরে আজাদ, কামাল ও নুরু মিয়াসহ আরও কয়েকজন পুকুরটিতে জাল ফেলে মাছ ধরতে যান। এ সময় মুর্শিদ পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ ধরার কারণ জানতে চেয়ে বাধা দিলে আজাদ মিয়া পুকুরটি ইজারা নিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু মুর্শিদ বলেন তিনি তার অংশ ইজারা দেননি। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মুর্শিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে মুর্শিদকে উদ্ধার করে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মুর্শিদের পারিবারিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে কোনো কারণ ছাড়াই সবার পক্ষ থেকে চার লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মুর্শিদের পরিবার এতে আপত্তি জানিয়ে ঘটনার ১১দিন পর হাজী কুতুব মিয়াকে প্রধান করে পাঁচজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে মুর্শিদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন। গত ১৬ অক্টোবর মুর্শিদের স্ত্রীর দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আশুগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী মোছাম্মৎ নাসমিকা সাংবাদিকদের বলেন, পুকুরের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে আমার স্বামীকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে আজাদ মিয়া।

পিটিয়ে মারার সময় আজাদের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর কেউ ছিল না। তাহলে মামলায় বাকিদের কেন আসামি করা হয়েছে জানতে চাইলে পুকুরের ইজারার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের নাম দিয়েছি বলে জানান তিনি।

এদিকে মুর্শিদ মারা যাওয়ার পাঁচদিন পর ১০ অক্টোবর তার ছেলে কাউছার আলম আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করেন। সেই সনদেও হৃদরোগে মুর্শিদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।

আসামিপক্ষের লোকজন বলেন, মুর্শিদ স্ট্রোক করে মারা গেছে কিন্তু রহস্যজনক কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত কাজ চলছে। কিন্তু সমস্যা হলো মৃত ব্যক্তির কোনো সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা আদালতের কাছে উপস্থাপন করব। সেক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/এমকেএইচ