আদালতে নুসরাতের ভাইকে হুমকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৯

বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের দিন আদালতে প্রকাশ্যে বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে হুমকি দিয়েছেন আসামি ও তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে উপস্থিত হলে আসামিরা তার দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় তাকে গালমন্দ করে হুমকি দেন।

নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান সাংবাদিকদের বলেন, নানাভাবে আসামি পক্ষের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারের লোকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আজও আদালতে প্রকাশ্যে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এর আগে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিকও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নানাভাবে হুমকি-ধামকি পাচ্ছি। পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী সবসময় খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তিনি আমাদের পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, নুসরাতের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নুসরাতের ওপর নৃশংস ঘটনার পর থেকে তাদের বাড়িতে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রয়োজনে এটি আরও বাড়নো হবে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় আলোচিত এ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। পরে ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

বিভিন্ন সময় আদালতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাশেদুল হাসান/এমবিআর/এমকেএইচ