বিয়ের জন্য জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছাত্রীরা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার প্রথম দিনে শনিবার ১২৬ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৭৮ জন ছাত্রী এবং ৪৮ জন ছাত্র।

অনুপস্থিত ছাত্রীদের অধিকাংশই বাল্যবিয়ে করে সংসারী হয়েছে। পাশাপাশি দারিদ্র্যের কারণে অধিকাংশ ছাত্র চলতি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলায় পাঁচটি জেএসসি ও একটি জেডিসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। ৫১টি মাধ্যমিকের ও ১৪টি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাত হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৭৮ জন ছাত্রী ও ৪৮ জন ছাত্র ছিল বলে শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে।

মৈশামূড়া বসন্ত কুমাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের জেডিসি পরীক্ষার্থী স্বপ্না আক্তার, পাপিয়া আক্তার ও শিখা আক্তার জানায়, আমাদের বান্ধবী মীম আক্তারের, নাবিলা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য পরীক্ষা দিচ্ছে না। তারা এখন স্বামীর বাড়িতে আছে। এমন আরও কয়েকজন আছে। বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা দিচ্ছে না তারাও।

Mirzapur-(1).jpg

বন্দ্যে কাওয়ালজানী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ছবিরুল, ফাহিম, রাইসুল ইসলাম ও আশিক জানায়, আমাদের সহপাঠী রাকিব ও হৃদয় লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাকরি নিয়েছে। কারণ তাদের পরিবারে অভাব। পড়ালেখার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই তাদের পরিবারের।

হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মারুফ, সিহাব, সুশান্ত রাজবংশী জানায়, দারিদ্র্যের কারণে বানকাটা গ্রামের সহপাঠী আরিফ হোসেন লেখাপড়া বন্ধ করেছে। সে এখন জাল দিয়ে মাছ ধরে। এমন আরও দুই সহপাঠী আছে আমাদের।

মির্জাপুর এসকে পাইলট সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব মো. মাসুদুর রহমান ও হল সুপার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কি কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীরা সময় মতো রেজিস্ট্রেশন না করায় অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগ করা উচিত ছিল।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, বাল্যবিয়ে ও দারিদ্র্যের কারণে কারও পড়ালেখা বন্ধ হলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলার কোথাও বাল্যবিয়ে হলে আমাকে জানানোর অনুরোধ করছি সবাইকে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমএস