খুলনায় প্রতিদিন ৪ শতাধিক ডায়াবেটিস রোগী সামলান ১২ চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বিভাগীয় শহর খুলনায় ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার। অথচ তাদের সেবায় চিকিৎসা কেন্দ্র আছে মাত্র দুটি। এরমধ্যে একটি হাসপাতাল, অপরটি সমিতি। এই দুই স্থানে চিকিৎসক আছেন মাত্র ১২ জন। ফলে প্রত্যেক দিনই গড়ে চার শতাধিক রোগীকে সামলাতে হয় তাদের।

প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ রোগীকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে মাঝেমধ্যে চিকিৎসাও ওলট-পালট হয়ে যায়। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের রোষানলে পড়তে হয়। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। অনেক সময় রোগীর অবস্থা বুঝে পাঠিয়ে দিতে হয় অন্য হাসপাতালে। তবে আর কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় রোগীরা ছুটে আসেন এই দুটি প্রতিষ্ঠানে।

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও সমিতির চিকিৎক ডা. এমবি জামান।

khulna-diabetick-somity

নগরীর স্যার ইকবাল রোডে (খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে) অবস্থিত খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি। এক সময় এটাই ছিল নগরীতে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র স্থান।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নগরীর বয়রা এলাকায় এক একর জমির ওপর খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রায় ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভবনটি খুলনা ডায়াবেটিক সমিতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল হাসপাতালটি চালু হয়। কিন্তু হাসপাতালটিতে ৬ তলা ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ৩ তলা পর্যন্ত। এছাড়া সেখানে একশ শয্যা থাকার কথা থাকলেও সাড়ে চার বছরে একটি শয্যাও চালু হয়নি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, আর্থিক সংকটের কারণে এ অবস্থা।

বর্তমানে হাসপাতালটি পরিচালনা করছে খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি। ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে আছেন ৮৫ জন। অথচ খুলনায় নিবন্ধিত ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজারেরও বেশি। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় একশত জন ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে আসেন। সমিতি কেন্দ্রেও একই অবস্থা। তাদের মধ্যে গড়ে ৩০/৪০ জনের এ রোগ ধরা পড়ে। আর পুরনো রোগীতো আছেই। ফলে অর্থাভাবে আক্রান্তদের বিনামূল্যে কোনো ওষুধ বা ইনসুলিন দেয়া সম্ভব হয় না।

khulna-diabetick-somity

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জামান বলেন, এখানে প্যাথলজি, চোখ ও দাঁতের বিভাগ থাকলেও কিডনির কোনো বিভাগ নেই। অপারেশন থিয়েটার আছে শুধু চোখের চিকিৎসার। বহুবার একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ চেয়েও পাওয়া যায়নি। মাঝে মাঝে রোগীদের পাঠিয়ে দেয়া হয় শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুস সবুর বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালটি এখনও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। তারা জানান, এখানে এমনিতেই চিকিৎসক কম। তারপরও যারা আছেন বেশিরভাগ সময়ই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত কাজী শামিম আহমেদ অভিযোগ করেন, সমিতি ও হাসপাতালে রোগীদের সেবার পরিবর্তে চিকিৎসকরা ব্যস্ত থাকেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে। ফলে রোগীর চাপ তারা সামলাতে পারেন না। প্রায়ই রোগীদের পরীক্ষা ওলট-পালট হয়ে যায়। তারপরও এই দুই স্থান ছাড়া যাওয়ার আর কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে আসতে হয় তাদের।

এমএমজেড/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]