৮৬ টাকার পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা
তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বাগেরহাটের পাম্পগুলোতেও বন্ধ রয়েছে তেল বিক্রি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
এদিকে, পেট্রল পাম্প শ্রমিকদের কর্মবিরতির সুযোগে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে খুচরা বিক্রেতারা। খুচরা তেলের দোকানগুলোকে ৮৬ টাকার পেট্রল ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিজেলের লিটারে ১০ টাকা, পেট্রল ও অকটেনের লিটারে ১৪-১৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
রোববার (০১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি পাম্পের সামনে মোটা রশি ও তেলের ড্রাম দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ভেতরে কোনো যানবাহন ঢুকতে দেয়া হয় না। পাম্পগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও যানবাহনে তেল সরবরাহ করছেন না।
বাগেরহাট বাস টার্মিনালে বসে থাকা ট্রাকচালক কামাল শেখ বলেন, রোববার থেকে তেলের পাম্পগুলো বন্ধ থাকবে তা আমাদের জানা ছিল না। ট্রাক নিয়ে পাম্পে গিয়ে দেখি তেল বিক্রি বন্ধ। তাই আজ কাজ বন্ধ দিয়ে বসে আছি।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক হিরণ মোল্লা বলেন, মোটরসাইকেলে যাত্রী নিয়ে পাম্পে এসে দেখি তেল বিক্রি বন্ধ। বাধ্য হয়ে যাত্রী নামিয়ে ফিরে এসেছি। খুচরা তেল বিক্রেতারা লিটারে ১৪ টাকা করে বাড়তি নিচ্ছেন।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক খুচরা তেল বিক্রেতা বলেন, পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় খুচরা তেল বিক্রির দোকানগুলোতে মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহী মাহেন্দ্র ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ভিড় করছেন। এ সুযোগে পেট্রল প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ও ডিজেলে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছি। এরপরও অধিকাংশ দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
রোববার সকাল ৬টা থেকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির ডাকে ২৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জানা যায়, ১৫ দফা দাবি পূরণ করতে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন শ্রমিকরা।
শওকত আলী বাবু/এএম/এমকেএইচ