বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা, ভিডিও থাকলেও ধরা পড়েনি কেউ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনার আটদিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য তিনদিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠানে আগত মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু ঘটনার আটদিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে। পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে জেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পরিষদ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সেখানে হামলা চালায় মুখোশ পরা একদল দুর্বৃত্ত।
এ সময় তারা অনুষ্ঠান মঞ্চ ও আগত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বসার চেয়ার ভাঙচুর এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনায় কিছুটা বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠানে পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে বিচার চেয়ে প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর ব্যত্যয় হলে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই এর প্রতিশোধ নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
এ ঘটনায় ওই দিন (১৬ ডিসেম্বর) রাতেই জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতীশ চন্দ্র রায় সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমানকে।
সেদিনের হামলার চিত্র ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট ৭ সেকেন্ড থেকে ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত তাণ্ডব চালানো হয় ঘটনাস্থলে। ১০-১২ জনের ওই দুর্বৃত্ত দলের সবাই যুবক। তারা মুখে মাফলার বেঁধে হামলা চালায়। হামলার প্রথমেই এক যুবক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছবিযুক্ত একটি ব্যানার টেনে ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

হামলার ঘটনার আটদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকেই শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মামলার আলমত সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেও আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
মামলার বাদী ও জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতীশ চন্দ্র রায় বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং মামলার আলামত নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুণ-অর-রশীদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যেহেতু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অ্যাকশনে যেতে পারবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, এ মামলার আসামিদের ধরার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ভিডিও ফুটেজ যাদের মুখ দেখা গেছে তাদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।
আজিজুল সঞ্চয়/এএম/জেআইএম