মা হয়ে ছেলের এ কষ্ট সহ্য করি কীভাবে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯

পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে দুই বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাব্বির মৃধা (২৫)। কিন্তু নিয়তির খেলায় সাব্বির এখন তার পরিবারের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার দুটি কিডনিই বিকল। বর্তমানে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল সাব্বিরের পরিবার তার ডায়ালাইসিসের খরচ চালাচ্ছে ধারদেনা আর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে।

সাব্বির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের তালশহর গ্রামের মৃত হুমায়ূন মৃধার ছেলে। দুই বছর ধরে চিকিৎসার খরচ চালাতে জায়গা-জমি বিক্রি করে সাব্বিরের পরিবার এখন সহায়-সম্বলহীন। তাই বাঁচার আকুতি নিয়ে মা নিলুফা বেগমকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। তার চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা নেই পরিবারের। বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন সাব্বির ও তার পরিবার।

সাব্বির জানান, সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে পাঁচ ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। দুই বোন বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি। বর্তমানে মা নিলুফা বেগম আর এক বোন বাড়িতে। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ২০১৭ সালে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেয়া হয় তাকে। লেবাননে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে এসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে পড়েছে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য তার কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু কিডনি না পাওয়ায় বর্তমানে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে দুবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করেন সাব্বির। প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ হয় তিন হাজার টাকা। ধারদেনা এবং সহায়তা নিয়ে এ খরচের জোগান দিচ্ছে সাব্বিরের পরিবার।

সাব্বিরের মা নিলুফা বেগম জানান, আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। পরিবারের জন্য ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলে রোগ নিয়ে দেশে ফিরেছে। জায়গা-জমি যা ছিল তা বিক্রি করে দুই বছর ধরে চিকিৎসা চালাচ্ছি। এখন বিক্রি করার মতো ভিটাবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। পাঁচ ছেলে বিয়ে করে যে যার মতো আছে। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আমি পড়েছি বিপদে। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য নিয়ে ডায়ালাইসিস করাচ্ছি। অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছি। সেই দেনা পরিশোধ করারও উপায় নেই। আমার ছেলে প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হয়ে ছেলের এ কষ্ট আমি সহ্য করি কীভাবে? সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার আবেদন আমার ছেলেকে বাঁচাতে তারা যেন আমাকে সাহায্য করেন।

সাব্বিরকে সাহায্য পাঠানো যাবে, মো. সাব্বির মৃধা, হিসাব নম্বর- ১৪০২৭০১০১০০৬১, সোনালী ব্যাংক, আশুগঞ্জ শাখা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কথা বলা যাবে ০১৭৪৮৩৯৫৪৯৫ নম্বরে।

আজিজুল সঞ্চয়/এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]