রিফাত হত্যা : একদিনে ৫ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা শিশু আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

অন্যদিকে বুধবার রিফাত হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিল কেন হবে না এ মর্মে আদালতের শোকজের জবাব দেবেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। এরপর মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান।

এদিকে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন মিন্নি এবং কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন এবং মো. সাগর।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এ সময় রিফাতের চাচা আবদুল আজিজ শরীফ, লতিফ শরীফসহ অপর এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনজন সাক্ষীকেই জেরা করেন আসামিপক্ষের ১০ জন আইনজীবী।

এরপর দুপুর ২টার দিকে বরগুনার শিশু আদালতে রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। নিহত রিফাতের মা ডেইজি বেগম এবং চাচাতো বোন নুসরাত জাহানের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। সাক্ষ্য প্রদানের সময় একমাত্র ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আদালতে মূর্ছা যান ডেইজি বেগম। পরে তাদেরও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

minni

এ বিষয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, মঙ্গলবার রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে রিফাতের দুই চাচাসহ তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ১৪ শিশু আসামির বিরুদ্ধে নিহত রিফাতের মা ও চাচাতো বোন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে আর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে তিনজন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে দুজন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেবেন।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, বুধবার মিন্নির জামিন বাতিলের বিষয়ে আদালতের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব আদালতে উপস্থাপন করব। আশা করি আমাদের উত্তর পেয়ে আদালত মিন্নির জামিন বহাল রাখবেন। এজন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; এ দু ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা উচ্চ আদালতের আদেশে এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে মারুফ মল্লিক এবং আরিয়ান হসেন শ্রাবণ জামিনে রয়েছেন। আর বাকি আসামিরা কারাগারে।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/এমএস