চন্দনার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

‘আর কত বয়স হলে সরকারি সুবিধা পাবেন আমার মা। বয়স তো কম হয়নি। এখন ঠিকমত চলতেও পারেন না। অথচ একটা বয়স্ক ভাতা কার্ড, বিধবা ভাতা কার্ড বা সরকারি যে কোনো সুবিধা আজও পাইনি আমরা। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। দেখবো, শুধু এটুকু বলেই কাজ শেষ জনপ্রতিনিধিদের।’ এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের শবদলপুর গ্রামের চন্দনা সরকারের ছেলে জয়দেব সরকার।

তিনি বলেন, মা এখন লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরা করেন। গ্রামাঞ্চলে প্রচণ্ড শীত। তবুও একটা কম্বলও জোটেনি। আমরা অভাবি মানুষ। ভোটের সময় নানা কথা বললেও বাস্তবে কথা রাখেন না জনপ্রতিনিধিরা। সরকারি সুবিধা পায় বড় লোকেরা, আমাদের ভাগ্যে জোটে না।

চন্দনা সরকারের বয়স এখন ৮৮ বছর। সাত বছর আগে স্বামী পতিত পাবন সরকার মারা গেছেন। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী চন্দনা সরকার। বর্তমানে অসুস্থ। তবে থাকেন অসুস্থ ছেলে জয়দেব সরকারের কাছেই। জয়দেন নিজে ও তার স্ত্রী সুলতা সরকারও অসুস্থ।

চন্দনা সরকার বলেন, ছেলে ও ছেলের বউ খুব অসুস্থ। তাদের সঙ্গেই থাকছি এখন। গরিব মানুষ। স্বামীও মারা গেছেন। বেঁচে আছি একভাবে। শীতে একটি কম্বল হলে ভালোভাবে শীতটা কাটাতে পারতাম। এখন আর ঠিকমত চলাফেরাও করতে পারি না, কষ্ট হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে চন্দনার কাপড়ও ঠিক মত জোটে না। মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে বলেও এতদিনে একটি বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা বা সরকারি কোনো সুবিধা জোটেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, চন্দনার এমন দুরবস্থার বিষয়ে আমাকে কেউ কখনো কিছু জানায়নি। এছাড়া সরকারি কোনো কার্ডের বিষয়েও বলেনি। এখন যেহেতু জেনেছি তখন তাকে সরকারি সহযোগিতার বিষয়ে উদ্যোগ নেব।

এ বিষয়ে কথা বলতে আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মিলনের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস