সীমান্তে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ, সন্দেহে বিএসএফ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০
ফাইল ছবি

পঞ্চগড় উপজেলা সদরের মোমিনপাড়া সীমান্তে হাসান আলী (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিবিজির আওতাধীন ওই সীমান্তের ৭৫২ মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিএসএফ সদস্যরা তাকে হত্যার পর বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নিহত হাসান আলী সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার তবিবর রহমানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মামুনুল হক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের মোমিনপাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসান আলীর মরদেহ দেখতে পেয়ে বিজিবি ও পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে গরু ব্যবসায়ী হাসান আলীসহ কয়েকজন বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে যান। এ সময় সীমান্তের ঘাঘড়া বিজিবি ক্যাম্পের বিপরীত ভারতের বেরুবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদলের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসান আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঝামেলা এড়াতে বিএসএফ সদস্যরা মরদেহ বাংলাদেশের সীমানায় রেখে গেছে। ভারত-বাংলাদেশের ওই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গরু চোরাকারবার হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, যেহেতু গুলিবিদ্ধ মরদেহটি বাংলাদেশের সীমানায় পাওয়া গেছে। কাজেই তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মামুনুল হক সীমান্ত এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ব্যক্তি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাকে গুলি করতে পারে। তবে প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত ছাড়া বলা ঠিক হবে না।

সফিকুল আলম/আরএআর/জেআইএম