যুবলীগ নেতার দ্বিমুখী পোস্টার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০
ঝালকাঠি যুবলীগ নেতা সৈয়দ মিলনের ফাঁসির দাবিতে পোস্টার (ডানে) ও মুক্তির দাবিতে পোস্টার (বামে)।

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনের দ্বিমুখী পোস্টার নিয়ে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। মূলত গ্রেফতার হওয়ার পরই মিলনের দ্বিমুখী পোস্টার দেখা যায়।

স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে মারধর ও চাঁদা দাবির মামলায় ১৩ জানুয়ারি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম অপু, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, সুমন, মামুন খান ও কামাল। ঝালকাঠি পৌর এলাকার ১নং চাঁদকাঠি ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি আবুল কালাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, অভিযান চালিয়ে ডাক্তার পট্টির বাসা থেকে সৈয়দ মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার শয়ন কক্ষ থেকে ১২টি ধারালো রামদা ও চারটি জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়। তার বাসা থেকে সাইফুল, মামুন, সুমন ও কামালকে গ্রেফতার করা হয়। অপুর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মিলনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। থানা পুলিশের হেফাজতে রেখে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার বাসার রান্না ঘর থেকে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে গ্রেফতারের পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা মিলনের পোস্টার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে নতুন পোস্টার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। সৈয়দ মিলন ও সহযোগীদের অস্ত্রসহ গ্রেফতার সংবলিত পোস্টার শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।

এসব পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অবশেষে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে ঝালকাঠিবাসী। আওয়ামী লীগ নামধারী ঝালকাঠির আতঙ্ক, শীর্ষ সন্ত্রাসী মিলন ওরফে মুরগি মিলন অস্ত্রসহ গ্রেফতার। মুরগি ব্যবসায়ী থেকে শত কোটি টাকার মালিক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১১টি মামলার আসামি।’

এসব পোস্টারে আরও লেখা হয়েছে, ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিলন ও মিলনের সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদাবাজি, জমি দখল, নারী নির্যাতন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের মারধর ও হুমকিসহ সন্ত্রাসীদের গডফাদার সন্ত্রাসী মিলনের ফাঁসি চাই। প্রচারে ঝালকাঠির সর্বস্তরের জনগণ।’

অপরদিকে সৈয়দ মিলনের মুক্তির দাবি জানিয়ে ব্যাপক পোস্টারিং করা হয়েছে। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবেক সফল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ভাইয়ের আস্থাভাজন, মুজিব আদর্শের সৈনিক, যুবলীগের ঝালকাঠি জেলা শাখার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি চাই। প্রোচারে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঝালকাঠী জেলা শাখা।’

আতিকুর রহমান/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।