প্রধান শিক্ষকের ভর্ৎসনায় স্কুল ছাড়ল ৫ম শ্রেণির সেরা ছাত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভর্ৎসনার কারণে ওই বিদ্যালয়ের কাজল আক্তার (রোল-১) নামের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তি হলো ৮ কিলোমিটার দূরের একটি বিদ্যালয়। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও প্রধান শিক্ষকের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪নং ইকরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্ৎসনা করেননি। ঘটনাটি মিথ্যা। তবে শিক্ষা অফিসার বলছেন, বিষয়টি জেনে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাজলের মা মাহফুজা বেগম (ঝুনু) জানান, গত ২০ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাটের ৪নং ইকরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ঝুমুর বেগম অন্য স্কুলে বদলি হন। বিদায়ী শিক্ষিকা ঝুমুরকে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজল, লিজা, রুনা ও তামান্নাসহ আরও কয়েকজন তার বিদায় উপলক্ষে উপহার দেয়। এতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোসনা রানী পাল কাজল আক্তারসহ অন্য শিক্ষার্থীদের অপমানজনক গালমন্দ করেন। বিষয়টি কাজলের মা মাহফুজা বেগম (ঝুনু) প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক জোসনা রানী পাল ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাককে গালাগাল করেন। এ ঘটনার পর রোববার (২৬ জানুয়ারি) কাজল আক্তার অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজল আক্তার কেন অন্য স্কুলে চলে গেল এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে গোসাইরহাটের ৪নং ইকরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোসনা রানী পাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি কোনো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাকদের গালগাল বা ভর্ৎসনা করিনি। আমি ছয়দিন প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে এসেছি। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা ঝুমুর বেগম আমাকে মোবাইল ফোনে জানান তার অন্যত্র বদলির আদেশ হয়েছে। আমার অনুমতি সাপেক্ষে সে তার বদলিকৃত বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। এ সময় কি হয়েছে, আমি জানি না। তবে কাজলের মা এসে আমার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির অন্যান্য শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করেছে। আপনারা শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিয়ে আমার স্কুলে এসে সত্যতা যাছাই করেন।

গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান খান বলেন, প্রধান শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষার্থীকে গালমন্দ করেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছগির হোসেন/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।