মাকে মেরে বাড়িছাড়া করলেন স্কুলশিক্ষক ছেলে

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
নির্যাতিত সৎমা আয়েশা বেগম

এই শীতের মধ্যে কত দিন অন্যের বাড়ি পড়ে থাকব আমি। আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। অত্যাচারের একটা সীমা আছে। আমার ঘর থেকে সবকিছু লুট করে নিয়েছে সৎছেলে। আমারে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে স্বামীর পেনশনের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে ওই ছেলে।

সৎছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন আয়েশা বেগম নামে এক বিধবা। নিজের ন্যায্য অধিকার চেয়ে এবং সৎছেলের নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বন্দ্যে কাউয়ালজানি গ্রামের স্কুলশিক্ষক হাছান আলীর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ধামরাই উপজেলার নান্না ইউনিয়নের রগোনাথপুর গ্রামের মোন্তাজ আলীর মেয়ে আয়েশা বেগমকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর চার ছেলে থাকলেও দ্বিতীয় স্ত্রী নিঃসন্তান।

এরই মধ্যে নয় মাস আগে হাছান আলী মারা যান। মৃত্যুর পর হাছান আলীর দ্বিতীয় সন্তান মির্জাপুর সদরের কাণ্ঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ কৌশলে সাদা কাগজে সৎমায়ের স্বাক্ষর নিয়ে মির্জাপুর সোনালী ব্যাংকের শাখায় যৌথ হিসাব খোলেন। সেই সঙ্গে বাবার পেনশনের ছয় মাসের টাকা হিসাবে জমা করেন আব্দুল হামিদ। পরে চেকবইয়ের দুটি পাতায় সৎমায়ের স্বাক্ষর নিয়ে ওই টাকা উত্তোলনের পাঁয়তারা করেন তিনি। বিষয়টি সৎমা জানার পর ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৎমাকে নির্যাতন ও মারধর করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে দুই মাস আগে সৎমা আয়েশা বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বিভিন্ন সময় বাড়ি ফিরতে চাইলেও সৎমাকে হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করেন শিক্ষক আব্দুল হামিদ।

পাশাপাশি হাছান আলী মারা যাওয়ার আগে নিজের তিন একর জমির ৪০ শতাংশ দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে যান। ওই জমিও সৎছেলে আব্দুল হামিদ দখলে নিয়েছেন। এছাড়া সৎমায়ের ঘরের তালা ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়েছেন হামিদ।

সৎছেলের নির্যাতন থেকে রক্ষা এবং স্বামীর বাড়ি ফিরে পেতে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আয়েশা। পরে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

যৌথ ব্যাংক হিসাব ও চেকের পাতায় সৎমায়ের স্বাক্ষর নেয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, সৎমায়ের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে ঠিক; তবে তাকে নির্যাতন করা হয়নি। এছাড়া বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার আগেই আমাদের চার ভাইয়ের নামে জমি লিখে দিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সৎমা। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমকেএইচ