অধিক লাভের আশায় কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে টমেটো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২০
কাঁচা টমেটো তুলে বাছাই করছেন নারীরা

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চলে একসময় তামাকের চাষ হতো। এখন তামাক থেকে মুখ ফিরিয়ে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। টমেটো শীতকালীন সবজি হলেও এখানে শীত থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত প্রচুর টমেটো উৎপাদন হয়।

এখানকার উৎপাদিত টমেটো স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে। এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত শৈত্যপ্রবাহের ফলে টমেটো পাকতে দেরি হওয়ায় অধিক লাভের আশায় গাছ থেকে কাঁচা টমেটো ছিঁড়ে কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করছেন চাষিরা।

উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের বেটুয়াজানী গ্রামের করিম শেখ, সবুর মিয়া, মোতাসিম, শহীদুল ও জয়েদ আলীসহ অনেকেই টমেটো চাষ করেছেন। একই সঙ্গে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও বেগুনসহ নানা রকমের শীতকালীন সবজির চাষ করেছেন তারা।

jagonews24

করিম শেখ বলেন, আমরা একসময় ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে তামাক চাষ করতাম। কিন্তু এখন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ও পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এর মধ্যে আমরা প্রতি বছর টমেটোর বাম্পার ফলন পাই।

চাষি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বীজ কোম্পানির পরামর্শ ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায়, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি নিয়ে জৈব সার ও সেক্সফোরমেন ট্র্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছি। বর্তমানে কয়েক একর জমিতে টমেটো ও সবজি চাষ রয়েছে আমার। কিন্তু এবার ফলন ভালো হলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে টমেটো পাকতে দেরি হচ্ছে। ফলে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত।

চাষিরা বলেন, প্রথম দিকে ভালো দাম পেলেও শেষের দিকে টমেটোর কেজি ৫-৭ টাকায় নেমে যায়। যা আমাদের জন্য হতাশার। তাই বাধ্য হয়ে কেমিক্যাল দিয়ে কাঁচা টমেটো পাকিয়ে বিক্রি করতে হয়। যদি টমেটো বা সবজি রাখার জন্য কোনো সংরক্ষণাগার থাকতো তাহলে আমাদের টমেটো পচে নষ্ট হতো না।

jagonews24

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, একসময় এখানের চাষিরা তামাকের চাষ করতেন। কিন্তু আমরা তাদেরকে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। এখন এলাকায় টমেটোর পাশাপাশি প্রচুর সবজির চাষ হয়। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি কিভাবে ওষুধ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে টমেটো পাকানো যায়। এর বাইরে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের নিরাপদ সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃষকদের উৎপাদিত ওষুধ ছাড়া টমেটো সরবরাহের ব্যবস্থা করছি আমরা।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।