চাকরি দেয়ার কথা বলে যা করলেন নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আদায় ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই নারী নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ডা. মুমিনুল হক নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি নওগাঁর সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় দুই নারীকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন। সেই সঙ্গে তাদের অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ শহরের খাস-নওগাঁ মহল্লার এক নারী সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হকের কাছে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি নেয়ার জন্য গেলে তিনি ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে মুমিনুল হককে দেন। এসময় ওই নারীকে চাকরি পেতে হলে ঢাকায় বড় স্যারের কাছে যেতে হবে এবং সেখানে ২-৩ দিন থাকতে হবে বলেও জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ওই নারী কয়েক দিন সময় চান। পরে ওই নারী ডা. মুমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সন্ধ্যায় তাকে অফিসে যেতে বলা হয়।

গত বছরের ১২ নভেম্বর ওই নারী সিভিল সার্জন অফিসে গেলে পিওনকে বাইরে পাঠিয়ে ডা. মুমিনুল তাকে কুপ্রস্তাব এবং শ্লীতাহারি করেন। এ ঘটনার ১৫ দিন পর ওই নারী চাকরির বিষয়ে ডা. মুমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে চাকরি দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

এছাড়া জেলার আত্রাই উপজেলার কচুয়া গ্রামের এক নারীকে চাকরি দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পরে তিনি ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ডা. মুমিনুল হককে দেন। পরে ২ ডিসেম্বর বিকেলে ওই নারীকে অফিসে দেখা করতে বলা হয়। অফিসে গেলে দরজা বন্ধ করে ওই নারীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

Naogaon-Dr.-Muminul-

গত ৯ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, হাসপাতালের নারী কর্মীদের সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই দিন স্থানীয়রা তত্ত্বাবধায়কের অফিসে গিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় ডা. মুমিনুল হক নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্বাস আলী/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।