মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:১৭ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি গুলজার হোসেন ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় রাতুল প্রধান ও তার ভাই রাজীব প্রধান দলবল নিয়ে এ হামলা করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক গুলজার হোসেন ও তার স্ত্রী সালেহা বেগম আহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিক গুলজার হোসেন অত্র এলাকায় সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পঞ্চায়েত কমিটির পুরোনো সদস্যরা তাকে পঞ্চায়েত কমিটির নতুন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন। তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তর ইসলামপুরে সামাজিক নাট্য সংগঠন ‘কিশোর বাংলার’ আয়োজনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির পাশাপাশি সাংবাদিক গুলজার হোসেনকে অতিথি হিসেবে রাখা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ী রাতুল তার বাহিনী নিয়ে হাজির হন এবং বলেন- ‘আমার বাবা ফজর ব্যাপারীকে অতিথি না করে, কেন সাংবাদিককে অতিথি করা হয়েছে।’ এ নিয়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গুলজার ওই স্থান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা করা হয়। খবর পেয়ে গুলজারের স্ত্রী স্বামীকে রক্ষা করতে আসলে তাকেও মারধর করেন রাতুল।

স্থানীয় দোকানদার আব্দুল হালিম বলেন, রাজীব-রাতুলদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে পারে না। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার মিতু বলেন, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে অবাধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে রাতুল, রাজীব ও তার দলবল। প্রতিবাদ করতে গেলেই মার খেতে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা থানায় অভিযোগ করতে গেলে জাতীয় শ্রমিক লীগ (শিল্পায়ন শাখা) মুন্সীগঞ্জের সভাপতি মো. আবুল কাসেম মাদক ব্যবসায়ী রাতুল ও রাজীবের পক্ষ নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে বাধা দেন।

এ বিষয়ে আবুল কাসেমের কাছে থেকে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং বলেন- সাংবাদিকরা কী করবে? আমি দাদার লোক।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জাম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক সাংবাদিক পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। রাতুল ও রাজীবকে আটক করে থানায় আনা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/আরএআর/পিআর