অসহায়দের সঞ্চয়ের টাকা ‘মন্ত্রী-এমপি’ নিয়ন্ত্রণে রাখা সাজুর পকেটে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার স্থানীয় ‘আশার আলো প্রভাতী সংস্থা’র কাজ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো। গতকাল শনিবার ‘মন্ত্রী এমপি ডিসি এসপি সব আমার নিয়ন্ত্রণে চলে’ শিরোনামে জাগোনিউজ২৪.কম’এ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, অসহায় মানুষগুলো ধারদেনা করে সঞ্চয়ের যে টাকা দেন সেটার জমার রশিদ ও সদস্য বই থাকে সংস্থার অফিসে। মাসের পরে মাস ঘুরতে হয় জমা রাখা টাকার সদস্য বইয়ের পেছনে। এ সংস্থায় শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বলের টোকেন নিতে ৪০ থেকে ১২০ টাকা লাগে।

আশার আলো প্রভাতী সংস্থার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের উল্যা সোনতলা শাখায় রোববার (২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা গিয়ে দেখা যায় কিছু নারী সেখানে ভিড় করছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে শোনা যায় ভিন্ন কথা। টাকা জমার বই সংস্থার অফিসে। কয়েক মাস ঘুরেও বই পাচ্ছে না তারা।

এমন অভিযোগ কচুয়া ইউনিয়নের আশার আলো প্রভাতী সংস্থায় কল্যাণী ভাতা ও সঞ্চয়ের টাকা জমা দেয়া পারুল বেগমের। তিনি জানান, সুদের উপর টাকা নিয়ে কল্যাণ ভাতার জন্য ৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। এখন কল্যাণ ভাতাও নেই, টাকাও নেই, বইও নেই।

সাঘাটার উল্যা সোনাতলা গ্রামের বিলকিছ বেগম জানান, যে কোনো সময় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হবে, সদস্য ফি ২২০ টাকা মাসিক সঞ্চয় ৫০ টাকা জমার শর্তে তাকে সদস্য হিসেবে ভর্তি করায়। ভর্তির বছর যেতে না যেতেই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ৫ বছর সঞ্চয় চালানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে।

একই এলাকার মাসুদ মিয়া নামে এক যুবক জানান, সদস্যরা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে না তাই সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায়নি।

নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক সংস্থার এক কর্মী জানান, এক চাল, ডাল, তেল, সেমাই চিনি ও ডেউটিন দেয়ার লোভ দেখিয়ে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে টাকা নিয়েছে। এখন সংস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে গেলে তারা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।

অভিযোগের সত্যতা জানতে আশার আলো প্রভাতী সংস্থার উল্যা সোনাতলার শাখা ব্যবস্থাপক সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। চাল দেয়ার সময় বইগুলো নেয়া হয়েছে কর্মীদের কাছ থেকে। সময় মতো পৌঁছে দেয়া হবে।

লাইসেন্স না থাকার পরেও টাকা লেনদেনের কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবু সুফিয়ান জানান, আশার আলো প্রভাতী সংস্থা কোন কোন ইউনিয়নে কাজ করছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট ইউএনও বরাবর জমা দেয়া হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আশার আলো প্রভাতী সংস্থার চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু গাইবান্ধা শহরের খানকা শরিফ এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাইবান্ধা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (রেজিস্ট্রেশন নং গাই/শহর/১৪৪৩/২০১৭ ইং) লাইসেন্স ব্যবহার করছেন।

সেই লাইসেন্সে জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এক লাখ অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ, চাল, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের নামে ভর্তি ফি বাবদ ৫২০ টাকা এবং মাসিক সঞ্চয় হিসেবে ৫০ টাকা কল্যাণী ভাতার জামানত ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ভাতার কথা বলে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে আসছেন। সমিতির ভর্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহে কয়েকশ কর্মী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করছে। প্রতি কর্মীকে মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতনে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা উত্তোলনের টার্গেট দিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান।

জাহিদ খন্দকার/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।