যারা রাতে কোর্ট বসায়, আদালত নিয়ে কথা বলার অধিকার তারা রাখে না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২০

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা রাতের আঁধারে কোর্ট বসায়, প্রধান বিচারপতির দরজায় পদাঘাত করে, আদালত নিয়ে কথা বলার অধিকার তারা রাখে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, আপনারা জানেন গতকাল পিরোজপুরে একজন জজকে বদলি করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী সেই বদলির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি যেভাবে এটা নিয়ে গলাবাজি করছে, আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব- একটু পেছনে ফিরে তাকানোর জন্য। বিএনপির আমলে ল’ডিগ্রি নেই, এমন লোককেও তারা হাইকোর্টের জজ বানিয়েছেন। ধরা পড়ার পর পদত্যাগ করেছিলেন। বিএনপির আমলে একজন হাইকোর্টের জজ রাতের বেলা তার ঘরের মধ্যে কোর্ট বসিয়েছিল। দিনের বেলা না রাতের বেলায়। কোর্ট বসিয়ে দুইপাশে বিএনপির দুই নেতাকে নিয়ে বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছিল।

jagonews24

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির আমলে তারা চিফ জাস্টিসের দরজার মধ্যে লাথি মেরেছে। বিএনপি আমলে তাদের এমপি পাপিয়া কোর্টের টাইপরাইটার জজের দিকে ছুড়ে মেরেছিল। যারা রাতের বেলা কোর্ট বসায়, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের জজ বানায়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দরজায় যারা লাথি মারে, তাদের আইন আদালত নিয়ে কথা বলার কেনো অধিকার থাকে না।

বাংলাদেশে আইন এবং আদালত স্বাধীন এবং স্বাধীন হওয়ার কারণেই আমাদের দলের নেতাদের হাইকোর্টে এবং জজকোর্টে হাজিরা দিতে হয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন-আদালত স্বাধীন বলেই পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তার স্ত্রী যিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুইবারের এমপি, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে হারিয়ে যিনি এমপি হয়েছেন, তার বিরুদ্ধেও মামলা হয়, তাকে জজকোর্টে হাজিরা দিতে হয়। দুদক যদি স্বাধীন না হতো, তার বিরুদ্ধে মামলাটাও হতো না। তাকে কোর্টে যেতে হতো না।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দলের সাবেক মন্ত্রী আদালতে জামিন চাইতে গেছে, তাকে জামিন বাতিল করে তাকে জেলে যেতে হয়েছে। আমাদের দলের এমপিদের নানা মামলায় হাজিরা দিতে হয়। এমনকি জেলেও যেতে হয়। আইন-আদালত স্বাধীন বলেই এটি সম্ভবপর হয়েছে। যেটি বিএনপির আমলে ছিল না। বিএনপির আমলে আইন এবং আদালত পরাধীন ছিল। তাই আবারও বলব যারা রাতের বেলা কোর্ট বসায় আর দিনের বেলা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দরজা লাথি মারে আর যারা ভুয়া ল' ডিগ্রিধারীদের জজ বানায় তাদের এই নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই।

jagonews24

সেই সঙ্গে দলের সদস্যদের বিনয়ী হতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পরপর তিনবার ১১ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায়। ক্ষমতা থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আমি আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বলব, বিনয়ের কোনো বিকল্প কোনোদিন হবে না। আমি নেতাকর্মীদের বিনয়ী হওয়ার অনুরোধ জানাব- আমাদের আচরণে মানুষ যেন বিরক্ত না হয়। দল তাদের দায় দায়িত্ব নেবে না। যদি জনসমর্থন পেতে হয় তাহলে শুধু উন্নয়ন দিয়েই নয়, বিনয়ী আচরণ দিয়েও জনসমর্থন পাব। মানুষ যাতে আমাদের ভালোবাসে। ক্ষমতা থাকলে ক্ষমতা প্রদর্শন করতে নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. মইনুদ্দীন মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি ভোট কারচুপির কথা বলে। আওয়ামী লীগ যদি ভোট কারচুপি করতো তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি কীভাবে জয়লাভ করল?

তিনি আরও বলেন, বিএনপির দিন শেষ হয়ে গেছে। জনগণ আর বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেনি, জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার করেনি, তাদের মুখে আইনের শাসনের কথা মানায় না।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে রাজনীতি করেছেন। আপনারা গ্রামে গ্রামে যান। ভুল করে থাকলে ভুল স্বীকার করুন। কে সভাপতি হবেন, কে সেক্রেটারি হবেন তার চিন্তা না করে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম আখতার জাহান ও সাহাবুদ্দীন ফরাজী, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডবলু সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিল উদ্দীন আহ্ম্মেদ শিমুল এমপি ও ফেরদৌসি ইসলাম জেসি এমপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওদুদ।

আব্দুল্লাহ/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।