চোখের সামনে গলায় ফাঁস দিলেও স্ত্রীকে বাঁচালেন না স্বামী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২০
স্বামী ফয়সালের সঙ্গে বন্যা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় চোখের সামনে গলায় ফাঁস দিলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি স্বামী। সেই সঙ্গে স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে স্বামী ফয়সাল হোসানইনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে শ্বশুরবাড়িতে স্বামীর সামনে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ নুরুন্নাহার বন্যা (২৭)। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

গ্রেফতার ফয়সাল হোসাইন (৩২) উপজেলার বিরাজপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। নিহত বন্যা মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি গ্রামের সামছুল হকের মেয়ে নুরুন্নাহার বন্যাকে প্রায় ১০ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন ফয়সাল। তাদের ঘরে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর না যেতেই দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে শালিস বৈঠক হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে সোমবার রাতে শ্বশুরবাড়ির নিজগৃহে ফয়সালের সামনে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বন্যা। পরে স্বামী ও শাশুড়ি বন্যাকে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

বন্যার বাবা সামছুল হক বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানুসিকভাবে নির্যাতন করত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। কয়েকদিন আগে বন্যা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়িতে চলে আসে। গত শুক্রবার মেয়েকে নিতে এসে সবার সামনে মারধর করে ফয়সাল। পরে উভয়কে বুঝিয়ে বন্যাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার ও প্ররোচনায় আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। একই ঘরে থাকলেও তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি ফয়সাল।

শিবালয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। পরে বন্যার স্বামী ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বি.এম খোরশেদ/এএম/এমকেএইচ