পল্লী বিদ্যুতের অবহেলায় দুই হাত কাটা পড়ল শিক্ষার্থীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:০০ এএম, ১৮ মার্চ ২০২০

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঝুলে পড়া তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হয় সাব্বির হোসেন খান (১৪)। ১২ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফুফুর বাড়ির কাছের মাঠে ক্রিকেট বল কুড়াতে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ছেলেটি। এ ঘটনায় সাব্বিরের দুই হাতের কবজি থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।

সাব্বির হোসেন খান ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের পূর্বমহিষার গ্রামের আলী মোহাম্মদ খান ও নাজমা বেগম দম্পতির ছেলে। সে গৈড্যা ফাজিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি।

সাব্বির হোসেন খানের বাবা আলী আহাম্মদ খান বলেন, আমি একজন গরিব মানুষ, কাঠমিস্ত্রির কাজ করি। কাজ করতে গিয়ে আড়াই মাস আগে ছাদ থেকে পড়ে দুই হাত ভেঙে যায়। আমার হাত দুটি ব্য‌ান্ডেজ করা।

আমার চার মেয়ে, এক ছেলে। সাব্বির সবার বড়। তিন সপ্তাহ আগে ইসলামপুর কানাইকাঠি গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় সাব্বির। পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। এ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছি সাব্বিরের পেছনে। টাকাগুলো ঋণ করে আনা। অর্থের অভাবে চোখে অন্ধকার দেখছি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সাব্বির খুব ভালো ছেলে ছিল। একমাত্র ছেলের হাত দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। এই হাত দিয়ে বাবাটা আর কাজ করতে পারবে না এবং লিখতে পারবে না।

সাব্বিরের মা নাজমা বেগম বলেন, পরিবারের উপার্জিত ব্যক্তি ছিলেন আমার স্বামী। তিনি একটি দুর্ঘটনায় আড়াই মাস যাবত বিছানায় পড়ে আছে। এখন আবার একমাত্র ছেলে সাব্বির দুই হাত হারালো। এত অভাবের মাঝে সংসার চালানো ও ছেলেকে চিকিৎসা করাটা কষ্টকর।

সাব্বিরের ফুফাতো বোন সাথী আক্তার জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কানাকাঠি গ্রামে ফুফু বিনা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে সাব্বির। ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ফুফুর বাড়ির পাশে খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায় সে। খেলতে গিয়ে ক্রিকেট বল কুড়াতে গেলে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের একটি ঝুলে পড়া তারে জড়িয়ে গুরুতর হয় সাব্বির।

পরে স্বজনরা আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশংকাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সাব্বির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, সাব্বিরের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় ১৬ মার্চ (সোমবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপারেশন করা হয়। ৬ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করে ডান ও বাম হাত কবজির ওপর থেকে কেটে ফেলা হয়। সাব্বিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এলাকাবাসী জানায়, পল্লী বিদ্যুতের ঝুলে পড়া তারের বিষয় ডামুড্যা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে স্থানীয়রা কয়েকবার জানায়। বিষয়টি কয়েকবার জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। সাব্বিরের এই অবস্থার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দায়ী। তাদের অবহেলার জন্য সাব্বির এখন মৃত্যুর মুখে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মাদবর বলেন, আমি পল্লী বিদ্যুতের ঝুলে পড়া তারের বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে জানিয়েছিলাম। তাদের বলেছি, একটি তার বিপদজনকভাবে ঝুলে আছে। আপনারা এই লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেন অথবা খুলে নিয়ে যান। তারটি বিচ্ছিন্ন না করায় আজ একটি ছেলে তার দুটি হাত হারিয়েছে। এই ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুতের কর্তৃপক্ষ দায়ী। দুর্ঘটনার পরের দিন ঝুলন্ত তার কেটে নিয়েছে পল্লী বিদ্যুতের লোকেরা।

ডামুড্যা উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম সাইফুল হক খান মুঠেফোনে জানান, এ বিষয়টা নিয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক স্যারের সাথে কথা বলব। এখন আর কিছু বলতে পারব না।

ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে থানায় একটি লিখিত দরখাস্ত দেয়া হয়েছে। আহত সাব্বিরের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো. ছগির হোসেন/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।