সবই আছে, দামও কম, নেই শুধু ক্রেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২০

সপ্তাহখানেক আগেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাজারগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু লকডাউন হওয়ার ভয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা।

অনেকেই তখন চড়া দামে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনায় বাজারগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। বাজারে পণ্যের পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় এখন অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরুলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। মূলত করোনাভাইরাসের কারণে মানুষজন ঘর থেকে না বের হওয়ায় বাজারগুলোতে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের জগৎ বাজার ও আনন্দ বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবগুলো দোকানেই ক্রেতা সংকট, যে কয়েকজন ক্রেতা আসছেন তাদের বেশিরভাগই পণ্যের দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। অথচ অন্য সময় এই জগৎ বাজার ও আনন্দ বাজারে পা ফেলারও জায়গা থাকে না।

jagonews24

সাধারণ ক্রেতা ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় মুখর থাকে বাজার দুটি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। দোকানে ক্রেতা না থাকায় বসে বসে ঝিমুচ্ছিলেন জগৎ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. ইমন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতে পারেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাজার এখন ক্রেতাশূন্য।

রোববার সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মাত্র দেড়শ টাকার পেয়াঁজ ও আদা-রসুন বিক্রি করেছেন তিনি। তানজিল স্টোরের স্বত্বাধিকারী রতন মিয়া জানান, সকালে দোকান খোলার পর বেলা ১১টার দিকে দুজন ক্রেতার কাছে এক হাজার টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করেছেন। ৪৩ টাকা করে কেনা পেঁয়াজ এখন ৩৮ টাকা করে বিক্রি করছেন, তবুও ক্রেতার সংকট বাজারে।

যে কয়েকজন ক্রেতা আসছেন তারা মূলত তেল, পেঁয়াজ ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্যই আসছেন বলে জানান তিনি।

পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাউসার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন জানান, এমনিতে প্রতিদিন দুই লাখ টাকা বেচাকেনা হয় তার দোকানে। আজকে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। আগে চারজন শ্রমিক কাজ করত তার দোকানে, ব্যবসা মন্দা হওয়ায় দুজন শ্রমিক ছুটিতে আছেন। রাস্তায় যানবাহন না চলায় পাইকাররা বাজারে আসতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

jagonews24

আনন্দ বাজারের চাল ব্যবসায়ী জালাল ট্রেডার্সের মালিক মো. প্রভাষ জানান, চালের বাজারের বেচাকেনাও কমেছে। আগে দৈনিক আড়াইশ থেকে তিনশ বস্তা (৫০ কেজি প্রতি বস্তা) চাল বিক্রি হতো তার দোকানে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল থাকা সত্ত্বেও বেচাকেনা কম। আজকে বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত দেড়শ বস্তা চাল বিক্রি হয়েছে তার দোকানে।

জেলা শহরের প্রধান এই দুই বাজারের মতোই বাকি বাজারগুলোর অবস্থা। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুত থাকলেও ক্রেতা নেই। অনেক ব্যবসায়ী চলতি মাসে দোকান ভাড়ার টাকা মেলাতে পারবেন কী-না সেই চিন্তায় আছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা, মশুর ডাল ৭০ থেকে ৭৫, তেল প্রতি লিটার ৯৮, রসুন প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।

প্রতি বস্তা বিআর ২৮ চিকন চাল ১৯৫০ টাকা, নাজিরশাইল ২৩২০ ও বিআর ৪৯ বিক্রি হচ্ছে ১৮৩০ টাকা দরে।

আজিজুল সঞ্চয়/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।