১০ দিন পর বাড়ি ফিরলেন ভুল ট্রেনে ওঠা ফাতেমা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২০

ভুল ট্রেনের যাত্রী হয়ে বগুড়ার সান্তাহারে ১০দিন থেকে আটকে পড়া বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম (৭০) অবশেষ বাড়ি ফিরলেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ফাতেমা বেগমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, ভাতিজা গোলাম কিবরিয়া ও যশোর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে সান্তাহারে আসেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তারা ফাতেমাকে নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

এ সময় সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, প্যানেল মেয়র মজিবুর রহমান, সান্তাহার শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১মার্চ) জাগো নিউজে ‘ভুল ট্রেনে উঠে যশোরের ফাতেমা ৭ দিন ধরে সান্তাহারে’ শিরোনাম সংবাদ প্রকাশ হয়।

সান্তাহার পৌরসভা মেয়র তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বৃদ্ধা মহিলা গত ২৬ মার্চ সান্তাহার স্টেশনে কান্নাকাটি করছিল। পরে তাকে রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৩১মার্চ) সকালে সান্তাহার পৌরসভার একটি ঘরে রাখা হয়। তাকে দেখভালের জন্য পৌরসভার এক পিয়নকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

এরপর বুধবার (১ এপ্রিল) যশোর সদর থানার মাধ্যমে যোগাযোগ করে ওই বৃদ্ধার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় তারা আসতে পারছিলেন না। শুক্রবার বৃদ্ধার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও ভাতিজা গোলাম কিবরিয়া মাইক্রোবাস ভাড়া করে সান্তাহারে আসেন। এরপর তাদের হাতে বৃদ্ধা ফাতেমাকে তুলে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভুল করে উত্তরাঞ্চলের ট্রেনে উঠে ওই দিন সন্ধ্যায় সান্তাহার স্টেশনে এসে নামেন। করোনার প্রভাবে ২৬ তারিখ থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তিনি আর কোথাও যেতে না পেরে সান্তাহার স্টেশনে অপেক্ষা করেন। এক সময় ভয় পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে সান্তাহার স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে তার আশ্রয় মেলে। তার বাড়ি যশোর জেলা শহরের শংগরপুর গোলপাতা মসজিদের পাশে। স্বামী মৃত শেখ খলিল মিয়া। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে দেলোয়ার হোসেন ভাঙারি ব্যবসায়ী।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।