মেম্বার আ.লীগের হওয়ায় ওয়ার্ডে ত্রাণ দেননি বিএনপির চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২০

কক্সবাজার সদরের ১নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবুল কালাম সরকারি ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিতরণ করা সরকারি ত্রাণগুলো ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেয়া সহযোগিতা বলে প্রচার করে আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি সদস্যের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউকে ত্রাণও দেননি তিনি। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ওয়ার্ডের লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ ইদ্রিস অভিযোগ করে বলেন, গত ১১ এপ্রিল ইসলামপুর ইউনিয়ের ১ হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম। সেসময় তিনি প্রচার করেন, এসব ত্রাণ তার ব্যক্তিগত ও বিএনপির তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে।

ত্রাণসামগ্রীতে ছিল ১০ কেজি চাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি লবণ ও ১ পিচ সাবান।

বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি প্রচার হয়। সেখানেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব ত্রাণ দেয়া হয় বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম। এরপর থেকে বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালামকে মানবিক উল্লেখ করে অভিনন্দনে ভাসান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা।

ইউপি সদস্য ইদ্রিস দাবি করেন, তিনি (ইদ্রিস) ওয়ার্ড মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় ইউনিয়ন ও জেলা বিএনপির সদস্য ও চেয়ারম্যান আবুল কালাম তার এলাকায় কোনো ত্রাণ বিতরণ করেননি। অথচ এ ওয়ার্ডের শতকরা ৮০ জন লোক গরীব ও শ্রমজীবী। সেদিনের ত্রাণ না পাওয়ায় হতদরিদ্র ওয়ার্ডবাসীর জন্য সরকারি ত্রাণের তদবির করতে গিয়ে জানতে পারি ওইদিন বিতরণ হওয়া ত্রাণ সরকারি জরুরি সহায়তা ছিল। বিষয়টি লিখিতভাবে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে চাইলেও তিনি লিখিত অভিযোগ না নেয়ায় মৌখিকভাবে জানিয়ে আসা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইদ্রিস আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে আমাদের মেম্বার-চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব ব্যক্তিগত। সে দ্বন্দ্বের কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এলাকার সাধারণ মানুষকে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করার অধিকার চেয়ারম্যানের নেই। সরকারি ত্রাণ থেকে একটি ওয়ার্ডকে এভাবে বঞ্চিত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।

Coxbazar

অপরদিকে চেয়ারম্যানের দেয়া ত্রাণ ব্যক্তিগত ছিল বলে প্রচার পাওয়ায় স্থানীয়রা সরকারি ত্রাণের আশায় প্রতিদিন মেম্বারের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এনজিও থেকে সহযোগিতা দেয়ার খবর পেয়ে সদর ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করেই এবার ত্রাণ দেয়া হয়নি। সরকারি ত্রাণ বিতরণ করেছেন ট্যাগ অফিসার আর একইদিন আমি দলীয় এবং নিজ তহবিলেরটা দিয়েছি।

চেয়ারম্যানের মতে, মেম্বারের মাধ্যমে ত্রাণ দিলে তা তিনি নিজের মাঝে রেখে দেন। তাই আমি নিজেই সেখানে ত্রাণ বিতরণ করি। দুজন দুই দলের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় বিতর্কটা লেগে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেম্বার ইদ্রিস রানার ওয়ার্ডে ত্রাণ দেয়া হয়নি স্বীকার করে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, মঙ্গলবার ইদ্রীস রানা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার বক্তব্য শোনার পর আগামীতে ইদ্রিসের ওয়ার্ডে ত্রাণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ফেরানো হয়েছে।

সরকারি ত্রাণ নিয়ে আবুল কালামের ব্যক্তিগত প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনও বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে গত ১১ এপ্রিল যেসব চাল বিতরণ করা হয়েছে সবই সরকারি সহযোগিতা, চেয়ারম্যানের নয়। সেখানে ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ত্রাণ দাবি করে প্রচারিত নিউজ এবং একটি ওয়ার্ডে ত্রাণ না পাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।