ত্রাণও নেই, খাবারও নেই ছিন্নমূল মানসিক ভারসাম্যহীনদের

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ০৪ মে ২০২০

উন্নত দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল, বাংলাদেশেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।প্রতিদিন লম্বা হচ্ছে মৃতের তালিকা। টানা লকডাউনে বিপাকে পরিবারের হতদরিদ্র মানুষ। আরও বিপাকে পড়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার ছিন্নমূল মানসিক ভারসাম্যহীনরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা তুলে খেয়ে দিনযাপন করছেন। ব্যস্ততম সড়কে নেই যানচলাচল, নেই মানুষের কোলাহল, এখন আর ভিক্ষার টাকাও কপালে জুটছে না নিরীহ মানুষগুলোর।
শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজারে দেখা গেল এক মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে পেটের ক্ষুধা নিবারণে ডাস্টবিনের ময়লা খাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এরকম চিত্র ইদানিং চোখে পড়ছে অহরহই।

সরকারি ত্রাণ জুটে না তাদের কপালে। কারণ তারা লাইনে দাঁড়াতে পারেন না, আবার রান্না করেও খাওয়ার মতো বুদ্ধি নেই তাদের। দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের বিভিন্ন হোটেল, দোকান থেকে অবশিষ্ট খাবার দেয়া হতো। কিন্তু এখন হোটেল বন্ধ থাকায় তাদের অনাহারেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ক্রীড়া সংগঠক ও তরুণ লেখক আনম আজমল আলী শিহাব জাগো নিউজকে বলেন, অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঝে মাঝে এদের মুখে খাবার তুলে দেয়, কিন্তু সব সময়তো আর দেয় না, সবাইকে এই চলমান সংকটে এদের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ জেনন ফ্রেন্ডস’র সদস্য শেখ ই.আর. ইকবাল বলেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনরা বেকায়দায় পড়েছে। তারা কোথাও খাবার পাচ্ছে না। এসব দেখে আমি টানা এক সপ্তাহ নিজে রান্না করে তাদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। আমার মতো আরো কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের না খেয়ে থাকতে হতো না।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ইমরান জাগো নিউজকে বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনদের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে। যেহেতু সরকারিভাবে তাদের ত্রাণ দেয়া যাচ্ছে না তাই ব্যক্তিগতভাবে তাদের সহযোগিতা করব।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।