ব্যাংকে সামাজিক দূরত্বের ধার ধারছে না কেউ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ১৪ মে ২০২০

 

পটুয়াখালীতে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে গায়ে গা লাগিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন গ্রাহকরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শহরের প্রায় সব ব্যাংকের শাখায় একই চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাংকের শাখায় জীবাণুনাশক স্প্রে কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয় না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় সর্বোচ্চ লেনদেনকারীদের প্রাধান্য দেয়া হয়। গ্রাহকরা দীর্ঘ লাইন থাকলেও সেদিকে নজর নেই ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের। প্রবেশপথে জীবাণুনাশক স্প্রে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেই। একজন আরেকজনের গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুব বলেন, সবকিছু সীমিত আকারে না খুলে পুরোদমে খুলে দিলে মনে হয় এই ভিড় এড়ানো সম্ভব। ব্যাংকের ভিড় কিছুতেই কমে না। আল্লাহ তুমি রহম করো।

তিতাস এলাকার বাসিন্দা জামান রাশেদ বলেন, দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকে তাই এমন ভিড়। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা অল্প অল্প করে গ্রাহকদের ভেতরে প্রবেশ করালেই হয়।

শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা ফয়জুল মুনির বলেন, ভিড় দেখে মনে হয় ব্যাংকের টাকা গায়েব হয়ে যাবে। এজন্য কিছুতেই কমছে না ভিড়।

শহরের পূবালী ব্যাংকের গার্ড সোবাহান বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে ব্যাংকে প্রবেশ করানো হয় গ্রাহকদের। বড় ঠিকাদার এলে সবার আগে প্রাধান্য পান। আপনি কয়জনকে চেনেন? এখানে প্রতিদিন অনেক গ্রাহক আসে। এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।

শহরের আদালতপাড়ার বাসিন্দা রনিক বলেন, পূবালী ব্যাংকে চলে স্বজনপ্রীতি। ওই ব্যাংকের কাউন্টারে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে। সবাই টাকা তুলতে যায়। ব্যাংকে যাদের স্বজন আছেন বা বড় ঠিকাদার আছেন তাদের চেক ভিআইপি স্টাইলে ভেতরে যায়। ওদিকে কাউন্টারের সামনে যে ভিড় সেদিকে ক্যাশিয়ার বা ম্যানেজারের খেয়াল নেই।

শহরের নতুন বাজারের বাসিন্দা আবুল ফরাজি বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক, পদ্মা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংকে স্প্রে করা হয়। তবে ইসলামী ব্যাংকে স্প্রে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয় না।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শিপন বলেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইক সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।