বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব শুরু
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইছে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন সন্নিহিত বাগেরহাট জেলার মানুষ প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে। সে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুব সহজেই তারা সাইক্লোন সেন্টারে যেতে চায় না। বুধবার সন্ধ্যায় সুপার সাইক্লোন আম্ফান আঘাত হানতে পারে এ খবর জেনে জেলার ৯৭৭টি আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে তারা সকালে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপালের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রায় দুই লাখ মানুষকে সন্ধ্যার আগে আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসারে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য রেড ক্রিসেন্টসহ ১১ হাজার ৭০৮ জন স্বেচ্ছাসেবক বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে কাজ করছেন।
দুপুরে বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার নাজমুল কবির ঝিলামের নেতৃত্বে সদস্যরা ভৈরব নদীর শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেয়া মানুষজনকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র যেতে আহ্বান জানান।

এদিকে এই দুর্যোগকালীন সময়ে বাগেরহাটে ৮৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ছেড়ে অসংখ্য মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি ঘাটে অবস্থান নিয়েছেন।
মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ১০টি জাহাজকে বন্দরের মূল চ্যানেল থেকে সরিয়ে হারবাড়ীয়া পয়েন্টে নিরাপদে আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা চালাতে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে অবস্থান নিয়েছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের আটটি যুদ্ধ জাহাজ।

পূর্ব সুন্দরবনের ডিএও মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের ১০টি স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পার্শ্ববর্তী বন অফিসে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এইক সঙ্গে সুন্দরবনে অবস্থানরত সকল কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকার এ জেলার জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ তিন লাখ টাকা,শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা, গো খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা ও ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছে।
শওকত বাবু/আরএআর/জেআইএম