এক জেলাতেই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ০৩ জুন ২০২০

নওগাঁয় গোপালভোগ আম পাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারজাত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে গত ২৫ মে আম সংগ্রহের সময় বেঁধে দেয়া হলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

জেলার সাপাহার উপজেলায় গত সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার ইসলামপুর মোড়ে এনামুল হকের আম বাগান থেকে গোপালভোগ জাতের আম পাড়া হয়। এছাড়া গত ২৮ মে পোরশা উপজেলায় বড় মাদরাসা এলাকার একটি আম বাগান থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়।

এ দুই উপজেলা থেকে এ বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে ধারণা করছে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার ও পোরশা আমের জন্য বিখ্যাত। সাপাহারে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং পোরশায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে।

প্রতি হেক্টরে ১৭ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত কয়েক দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে আম কিছুটা ঝরে গেছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে আমের বাজারে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

চলতি মৌসুমে জেলা প্রশাসন থেকে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করে দেয়া হলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। নির্ধরিত সময়ের কয়েকদিন পর গাছ থেকে আম পাড়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ দুই উপজেলায় প্রায় তিনশতাধিক মৌসুমি আমের আড়ৎ গড়ে উঠেছে।

সাপাহার সদরের আম চাষি মোতাহার চৌধূরী বলেন, তার ৬৫ বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এরমধ্যে বারি-৪ জাতের ২৪ বিঘা, আম্রপালি ৩৫ বিঘা ও হাড়িভাড়া-৬ বিঘা। যেখানে আমের পরিচর্চা করতে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এ বছর আমের ফলন একটু কম হয়েছে। তারপরও আশা করা যায় দেড় থেকে দুই হাজার মণ আম আসবে। করোনাভাইরাসের কারণে মনে একটু শঙ্কা হচ্ছে ভালো দাম পাওয়া নিয়ে। কোনো ধরনের সমস্যা না থাকলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সাপাহার উপজেলার ভাই-বোন ফল ভান্ডারের প্রোপ্রাইটর জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, আম মৌসুমের এ উপজেলায় প্রায় ২০০টি আড়ত গড়ে উঠেছে। প্রকারভেদে গোপালভোগ আম ১ হাজার ৪শ থেকে ১ হাজার ৮শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে হাজার টাকা মণ দরে। করোনা পরিস্থিতির ওপর আমের বাজারদর নির্ভর করবে। যদি দেশে আবারও লকডাউন শুরু হয় তাহলে দাম কিছুটা কমবে। যদি পরিবহন স্বাভাবিক চলাচল করে তাহলে দাম বাড়বে। গত কয়েক দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমগুলোতে পচন দেখা দিয়েছে। এতে করে বাগান মালিকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৭ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ৫৫ শতাংশ জমিতে আম্রপালি জাতের আম বাগান রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুলের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও আমের ফলন ভালো। তবে গত তিন দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আশা করা যায় এ উপজেলা থেকে এ বছর প্রায় ৪শ কোটি টাকার আম বেঁচা কেনা হবে।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিুবর রহমান বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার এ বাজারে জেলার পত্নীতলা ও ধামইরহাটের কিছু অংশের আম বিক্রি হয়। আশা করা হচ্ছে- প্রায় ৬শ কোটি টাকার মতো আম বেঁচা কেনা হবে।

এ বছর জেলায় প্রায় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে।

এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]