ডাক্তারই মাত্র ৫ জন, তার মধ্যে আবার একজনকে বদলি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ১১ জুন ২০২০

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসক মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে আবার ৩ জুন একজনকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। অথচ জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে আটটিতেই ১১ জনের অধিক করে চিকিৎসক নিযুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নিয়োগে এমন বৈষম্যের কারণে চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফকিরহাটে ১৭ জন, মোল্লাহাটে ১১, চিতলমারিতে ১২, রামপালে ১২, মোংলায় ১২, বাগেরহাট সদরে ২২, কচুয়ায় ১৩, মোরেলগঞ্জে ১২ এবং শরণখোলায় পাঁচজন চিকিৎসক কর্মরত। শরণখোলায় পাঁচজনের মধ্যে থেকে আবার করোনার কারণে দুজনকে রিজার্ভ রাখতে হয়। গত তিন দিন ধরে একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্তমানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে জেলার মধ্যে শরণখোলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এদিকে গত ছয় মাস আগে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করে আন্তরিকভাবে রোগী দেখায় সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা ফিরে পান। কিন্তু গত বুধবার (৩ জুন) খুলনার উপ-পরিচালকের দফতর থেকে ডা. সিরাজুলকে র‌্যাব-৬ এর করোনা আইসোলেশন সেন্টারে বদলি করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে ডা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছে একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তার কারণে চিকিৎসক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছিল। এ মুহূর্তে তাকে বদলি করায় এলাকাবাসীর আরো ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিমা আক্তার হাসি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বৈষম্য দূর করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি আট মাস আগে যোগদান করে এখানে মাত্র দুজন ডাক্তার পাই। এখন পাঁচজনের মধ্যে থেকে করোনা পরিস্থিতিতে দুজন ডাক্তারকে পালাক্রমে রিজার্ভ রাখতে হয়। একজনের পক্ষে জরুরি বিভাগ ও ইনডোরের ভর্তি রোগী দেখা আবার অপর একজনকে আউটডোরের রোগী দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।