কোরবানির ঈদ নিয়ে খামারিদের ভাবাচ্ছে করোনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ২৫ জুন ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কোরবানির ঈদের হাট জমবে কিনা, পশু বিক্রি করে সঠিক মূল্য পাবেন কিনা এসব নিয়ে চিন্তায় খামারিরা। সারা বছর অর্থ ও কঠোর শ্রম দিয়ে গরু লালন-পালনকারীরা সঠিক দাম না পেলে বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন খামারে ১৯ হাজার ৫০১টি এবং গৃহস্থ বাড়িতে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮০০টি গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বছর করোনার কারণে বহু লোকের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ফলে অনেকেই কোরবানি দিতে পারবেন না। এতে এ বছর জেলার চাহিদা মিটিয়েও বহু পশু অবিক্রীত থেকে যাবে।

বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা এলাকায় অবস্থিত এয়ার এগ্রো ডেইরি ফার্মের পরিচালক মো. আনিসুর রহমান জানান, তার খামারে গাভী ও বাছুরসহ ৭০টি গরু আছে। কোরবানি উপলক্ষে ১০টি ষাঁড় গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গরুর ওজন সাড়ে ১০ মণ, গরুটি আসন্ন ঈদুল আজহায় চার লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি। এছাড়া আর দুটি গরু আছে যা ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কিন্তু বর্তমান বাজারের যে অবস্থা তাতে এমন দাম পাবেন কি-না সেটা নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার গরু পটুয়াখালীতে বিক্রি হবে না। বাজার ভালো হলে প্রতিবারের মতো গরু ঢাকায় নিয়ে যাব। যদি সঠিক দাম পাই তাহলে গরু বিক্রির টাকায় আরও ২০টি গরু কিনে খামারে গরু পালন শুরু করব।

সদর উপজেলার টাউন কালিকাপুর স্বাধীনতা সড়ক এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের পরিচালক গাজী আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ বছর কোরবানি উপলক্ষে ৩০টি গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি। টাকার অভাবে গরুকে ঠিকভাবে খাওয়া দাওয়া করাতে পারছেন না। তাই সব গরু এবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত নয়। সারা বছর কষ্ট করলেও করোনার মধ্যে লাভ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

jagonews24

সদর উপজেলার খামারি খোরশেদ বলেন, বর্তমানে গোখাদ্যের বাজারে অগ্নিমূল্য কিন্তু গরুর দুধের দাম নেই। সরকার ভর্তুকি না দিলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?

বাউফলের খামারি মোশাররফ হোসেন বলেন, এই একটা ঈদ টার্গেট করে আমরা সারা বছর কষ্ট করি। শুধু কোরবানির জন্য পালন করা পশুগুলোর ন্যায্যমূল্য না পেলে খুব বিপদ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এবার অনেকেই কোরবানি দেবেন না। ফলে ক্রেতা সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। কিছু দিন গেলে হয়তো বোঝা যাবে বাজারের অবস্থা কেমন।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির জন্য জেলায় চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি পশু আছে, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় পাঠানো যাবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।