সরকারি গম পাচার : প্রকল্প কর্মকর্তা ও মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা
সাতক্ষীরায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ৪০ টন সরকারি গম পাচারের ঘটনায় মামলা করেছে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খুলনা জেলা কার্যালয়। দুদকের খুলনা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে শনিবার মামলাটি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন খান, উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম, চম্পাফুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল গণি, সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা গ্রামের বায়ের সরদারের ছেলে ট্রাকচালক লিয়াকত সরদার, কালিগঞ্জের নলতা শরিফ এলাকার মৃত কামরুল হুদার ছেলে আব্দুল খালেক, গম ক্রেতা পাটকেলঘাটা থানা সদরের আনন্দ মোহন সাধুর ছেলে ব্যবসায়ী গোবিন্দ সাধু।
দুদকের খুলনা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক নীলকমল পাল বলেন, সরকারি গম যোগসাজশ করে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পাচার করেছেন তারা। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় প্রকল্প কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে যাদের নাম আসবে তাদেরও আসামি করা হবে।
এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, কালিগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) দ্বিতীয় পর্যায়ে নয় প্রকল্পের গম প্রকল্প স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান ও গম ক্রেতারা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে আত্মসাতের জন্য পাচার করেছেন।
পাচারকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ও শুক্রবার বিকেলে প্রকল্পের পাচারকৃত গমগুলো উদ্ধার করা হয়। সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে ৩২৬ বস্তা (১৯ মেট্রিক টন) ও পাটকেলঘাটা থানা সদরের মুকুন্দ ফ্লাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিল থেকে ৩২৯ বস্তা (১৯ মেট্রিক টন) সরকারি গম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গমের মূল্য ১২ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ঘটনায় কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের ব্যবসায়ী মৃত কামরুল হুদার ছেলে আব্দুল খালেক (৫০), নবীনগর গ্রামের মৃত জাবের আলীর ছেলে আব্দুল গণি (৬০), তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত ছুরমান আলী গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫০) ও সাতক্ষীরা সদরের ইটাগাছা এলাকার মৃত উহের সরদারের ছেলে লিয়াকত আলীকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।
আকরামুল ইসরাম/এএম/এমকেএইচ