স্কুলে পরিচালকের ঝুলন্ত লাশ নিয়ে রহস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

কুড়িগ্রামের উলিপুরের প্যারাগন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এসএম রওশন সরদারের (৫৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এসএম রওশন সরদারের মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহের পাশ থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। এই চিরকুট উদ্ধার ও নিহতের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরেই রহস্যের সৃষ্টি।

জানা গেছে, পৌর শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্যারাগন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এসএম রওশন সরদার স্কুলের একটি শ্রেণি কক্ষের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করলেও তার পা শ্রেণি কক্ষের মেঝেতে ছিল। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার ও রশিতে ঝুলে থাকার ধরন নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিরকুটের লেখা তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রকাশ করেনি। তবে এসএম রওশন সরদার সোমবার (২৯ জুন) রাতে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ যেন আমাকে অদৃশ্য একটা কফিনে শুইয়ে দিচ্ছে।’ ফেসবুকে তার শেষ স্ট্যাটাস ও চিরকুটকে ঘিরে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে জনমনে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত এসএম রওশন সরদার বজরা ইউনিয়নের বজরা সাদুয়া দামারহাট সরদার পাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান সরদারের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রওশন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বসবাস করতেন। তার ছোট ভাই জাফর সাদেক সরদার হিরু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। প্রতিদিনের মতো ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সকালের নাস্তা দিতে গিয়ে দেখতে পান শ্রেণি কক্ষের আড়ার সঙ্গে ভাসুর এসএম রওশন ঝুলে আছেন। তখন তিনি পরিবারের সবাইকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

নাজমুল হোসাইন/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]