সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হলেন আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলামকে নওগাঁর মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেও চলছে নানা সমালোচনা।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হকের প্রস্তাবনায় অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। জহুরুল ইসলাম মান্দা গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স.ম জসিম উদ্দিন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ায় এই পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ নেয়ার চেষ্টা করছিলেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বৃহৎ উপজেলা মান্দা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০০৫ সালের ১১ মে সিলেকশনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোল্লা এমদাদুল হককে সভাপতি ও স.ম জসিম উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়। এক কমিটি দিয়ে ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে কমিটির কয়েকজন মারাও গেছেন। আবার নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটিতে কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে এক শোক সভায় আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। আমার কলেজটি সরকারি হলেও এখনও সরকারি বেতন-ভাতা পাইনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোনো রাজনীতিক দলের কোনো পদে থাকতে পারবেন না এবং এমনকি সদস্য পদেও না। যিনি সরকারি কলেজের একজন অধ্যক্ষ তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ দেয়া হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।

মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোল্লা এমদাদুল হক বলেন, জহুরুল ইসলাম গত ১৫ বছর ধরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরেকজন যিনি আছেন; তিনিও সরকারি চাকরি করেন এবং রাজশাহীতে থাকেন। সেহেতু দলটা পরিচালনা করতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে জহুরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কলেজটি সরকারিকরণ হলেও এখনও বেতন-ভাতা শুরু হয়নি।

নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ সমর্থক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে কিভাবে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়? কোনো আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া দলের সংবিধান পরিপন্থী নয় কি? হায়রে মান্দার আওয়ামী লীগের নীতি।’

আব্বাস আলী/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]