সরকারি সেতুতে আ.লীগ নেতার গেট!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চাকধ গ্রামে বসবাস করেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব হোসেন সেলিম ব্যাপারী। তার বাড়ির উত্তর পাশে রয়েছে সরকারি খাল। খালের পাশে নড়িয়া-সুরেশ্বর সড়ক। গ্রামবাসীর কথা চিন্তা করে সরকারি অর্থে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই সেতুটি সেলিম একাই ব্যবহার করছেন। এখন ওই সেতুতে তিনি বিলাসবহুল পাকা গেট নির্মাণ করছেন। মাহবুব হোসেন সেলিম ব্যাপারী নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও সেতুটির নেমপ্লেট থেকে জানা যায়, ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সেতু নির্মাণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৩২ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার অর্থাৎ ৪৫ ফুট। প্রকল্পটির নাম রাখা হয় ‘সেলিম ব্যাপারীর বাড়ির নিকট খালের ওপর সেতু নির্মাণ’।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চাকধ গ্রামটিতে সরকারি অর্থে দুইটি সেতু ও পাচঁটি কাঠের পোল তৈরি করা হয়েছে। ওই গ্রামেই সেলিম ব্যাপারীর বাড়ি। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য সেলিম ব্যাপারীর বাড়ির প্রবেশ দ্বারের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। সেতুটির পাশে কোনো রাস্তা নেই।

সেতুটির শেষ ভাগে অর্থাৎ সেলিমের বাড়িতে ঢোকার প্রান্তে ইট, সিমেন্ট ও রড দিয়ে একটি গেট করা হচ্ছে। যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গেটটি সেতুর গাইড ওয়ালের ওপর এবং রেলিংয়ের সঙ্গে জোড়া লাগানো। এই গেট নির্মাণের ফলে সেলিমের পরিবার ব্যতীত অন্য কেউ সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে না।

কোনো বহিরাগত যাতে বাড়িতে ঢুকতে না পারে তাই গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর নেম প্লেটটিও একটি গাছের গুঁড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অবশ্য সেতুটির ৫০০ গজের মধ্যে আরও একটি সেতু ও পাঁচটি কাঠের পোল রয়েছে। যা দিয়ে এলাকার জনসাধারণ যাতায়াত করে।

এ বিষয়ে মাহবুব হোসেন সেলিম ব্যাপারী বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার আমাকে খালের ওপর এই ব্রিজটি করে দিয়েছে। এই ব্রিজ দিয়ে কেউ যাতায়াত করে না। শুধু আমার পরিবারের লোক যাতায়াত করে। তাই ব্রিজের পাশে ও বাড়ির সামনে গেট করছি।

এ বিষয়ে ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম শাহ্জাহান সিরাজ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের আইনে পাকা গেট করার নিয়ম নেই। সরকারি ব্রিজে তিনি গেট করবেন কেন? যারা গেট করে তারা পাগল ছাড়া কিছু না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, সরকারি সেতুর উপর গেট করা যাবে না। আমরা পরিদর্শনে যাব, ঘটনা সত্য হলে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, সরকারি সেতুর ওপর পাকা গেটের কথা শুনলাম। সেতুর ওপর গেট করা যাবে না। উপজেলা প্রকৌশলীকে দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ছগির হোসেন/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]