‘এত ত্রাণ কোথায় যায়?’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ১৯ জুলাই ২০২০

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরইমধ্যে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। করতোয়া নদীর পানি বাড়ার ফলে তীরবর্তী এলাকা পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য, জ্বালানি, পয়োনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা কবলিত এলাকার পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

Gaibandha-(2)

সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নের আব্দুল মমিন বলেন, বন্যায় হাবুডুবু খাচ্ছি। সরকারি কোনো ত্রাণ কেউ দিতে আসেনি। আমরা এখন অনেক বিপদে আছি।

ফুলছড়ি উপজেলার বাংকের চারের গোলাম আজম বলেন, আমরা এক বেলা খেয়ে দুই বেলা না খেয়ে দিন কাটাই। কোনো জনপ্রতিনিধি দেখার জন্য আসেনি।

মুক্তিনগর ইউনিয়নের ভরতখালী (গো হাটি) গ্রামের করিম মিয়া জানান, টিভিতে দেখা যায় সরকার ত্রাণ দিচ্ছে। কই আমরাতো ত্রাণ পাচ্ছি না। এত ত্রাণ কোথায় যায়?

Gaibandha-2

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া গ্রামের রুহুল আমিন জানান, বন্যার কারণে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। চতুর্দিকে পানি আর পানি। পানিবাহিত রোগ দেখা দিলেও নেই কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকায় ৬১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

Gaibandha-2

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে করতোয়া নদীর ২৪ ঘণ্টায় ২১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

gaibandha

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

জাহিদ খন্দকার/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।