গাইবান্ধায় নদীগর্ভে ৩ স্কুল, হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ২০ জুলাই ২০২০

গাইবান্ধার পাঁচ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাড়িঘরে এখনও হাঁটু পানি থেকে কোমর পানি থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চরাঞ্চলের দেড় লাখ মানুষ। দ্বিতীয় দফার বন্যায় নদী ভাঙনে ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গাইবান্ধার ফুলছড়ি ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদীর পানি ১২ ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার কমে গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়নের পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাঁশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর ডান তীরঘেঁষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

jagonews24

তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রাম এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এতে উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করা এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনের ফলে চরম হুমকিতে রয়েছে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দুটি জামে মসজিদ, জিগাবাড়ী বাজার নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসা, জিগাবাড়ী ঈদগাঁ মাঠ, একটি বিএস কোয়ার্টার, তিনটি মোবাইল টাওয়ার ও এরেন্ডাবাড়ী বাজার। নদী ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরেই এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। তাছাড়া জিগাবাড়ী বাজারে অবস্থিত ২৫০টি দোকানের ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।

ফুলছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কফিল উদ্দিন জানান, নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় চর কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝানঝাইড় কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কালাসোনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

jagonews24

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বন্যায় এখন পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৬টি পরিবার বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও তিন হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জাহিদ খন্দকার/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।