ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রেতাশূন্য চামড়ার হাট  

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:১৮ এএম, ০২ আগস্ট ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ পৈরতলা এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়তি কিছু উপার্জনের আশায় গেল কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর চামড়ার ব্যবসা করছেন। কিন্তু গত বছর সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দেয়ায় ৪০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। এবারও সিন্ডিকেটের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন মোস্তফা।

মোস্তফার মতো কোরবানির পশুর চামড়া কিনে ‘মহাবিপদে’ পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। হাটে পর্যাপ্ত চামড়া থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল থেকে জেলা শহরের লোকনাথ দিঘির ময়দানে অস্থায়ী চামড়ার হাট বসেছে। এ হাটে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। আগামীকাল রোববারও (২ আগস্ট) এ হাটে চামড়া বেচাকেনা হবে। তবে ক্রয়মূল্যের চেয়ে দাম কম ওঠায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর শহরের টি এ রোডে অস্থায়ী চামড়ার হাট বসতো। গত বছর টি এ রোড থেকে সরিয়ে বোর্ডিং মাঠে বসানো হয় হাট। তবে এবার টি এ রোড নাকি বোর্ডিং মাঠ নাকি অন্য কোথাও চামড়া নিয়ে যাবেন- সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। প্রথেম শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামের আউটারে চামড়া নিয়ে গেলেও ভিআইপি এলাকায় হাট বসানো যাবে বলে পুলিশ সেখান থেকে ব্যবসায়ীদের উঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে লোকনাথ দিঘির ময়দানে বসে চামড়ার হাট। এ হাটে চামড়া নিয়ে আসা অধিকাংশই মৌসুমী ব্যবসায়ী। তবে এবার হাটে চামড়ার তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কেনার জন্য হাটে ক্রেতার কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বাড়তি কিছু টাকার আশায় ব্যবসায় নেমে এখন পুঁজি হারাতে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা বলেন, ‘ঢাকার বড় পাইকারদের হাটে আসতে দেয়া হয় না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসলেও স্থানীয় সিন্ডিকেটের লোকজন হাট পর্যন্ত পাইকারদের আসতে দেন না। ফলে পাইকাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া কেনেন। এতে আমরা প্রকৃত মূল্য পাই না’।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে গড়ে ২৫০ টাকা করে পাঁচটি চামড়া কিনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি চামড়াও বিক্রি হয়নি। অল্প কিছু ক্রেতা এসছেন হাটে। ১৭০-২০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। যদি চামড়ার ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে ময়লার ভাগাড়ে সব চামড়া ফেলে দেব’।

জুয়েল মিয়া নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সরকারপাড়া এলাকার এক গাড়ি চালক জানান, কিছু টাকার আশায় সারাদিন ঘুরে ঘুরে ১০ হাজার টাকার চামড়া কিনেছি। বিকেলে চামড়া নিয়ে নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে যাওযার পর পুলিশ সেখান থেকে উঠিয়ে দেয়। এরপর লোকনাথ দিঘির ময়দানে আসি। কিন্তু হাটে ক্রেতা সংকটের কারণে চামড়ার দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, সেই দামেও ক্রেতারা চামড়া নিচ্ছে না।

শহরের কান্দিপাড়া মহল্লার মাছ ব্যবসায়ী কাউসার মিয়াও এবার চামড়া ব্যবসায় নেমেছেন। তিনি জানান, গড়ে ১৫ টাকা দরে অর্ধশত ছাগলের চামড়া কিনেছেন তিনি। বিকেল থেকে চামড়া নিয়ে বসে আছেন হাটে। কিন্তু একজন ক্রেতাও তার চামড়াগুলোর দাম করেননি।

শহরের চন্ডালখিল এলাকার সিরাজবাগ মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি উবায়দুল্লাহ জানান, সারাদিনে মাদরাসার ছাত্ররা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ১০০টি চামড়া সংগ্রহ করেছে। বিকেলে হাটে চামড়াগুলো নিয়ে আসলেও বিক্রি করতে পারেনি। হাটে বড় কোনো পাইকার আসেনি। ছোট-খাটো কিছু ক্রেতারা আসলেও দাম কম বলছেন। বিক্রি করতে না পারলে চামড়াগুলো ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

এদিকে, চামড়ার বাজার মূল্য কম হওয়ায় অধিকাংশ চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুযা বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিষয়ে কোনো ব্যবাসয়ী এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

আজিজুল সঞ্চয়/এএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]