চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৩০টি কোপ দিয়ে আ.লীগ নেতাকে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২০
ছবি : নিহত কামাল মিয়া

চাচাতো ভাই খুনের মামলায় সাক্ষী হওয়ায় ও মামলা পরিচালনা করায় মূলত হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

বুধবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এতে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শেখ সেলিমসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ২০১৭ সালে নিহত কামাল মিয়ার চাচাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন খুন হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বলা হয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত কামাল মিয়া ওই মামলায় সাক্ষী ও মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। মূলত এ বিষয় নিয়ে কামাল মিয়ার সঙ্গে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি তাদের বিরোধ তীব্র হয়। এরই মধ্যে কামাল মিয়াকে খুনের পরিকল্পনা করেন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।

এসপি মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যান তার সহযোগীদের নিয়ে শিবগঞ্জ বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে কামাল মিয়াকে খুনের নকশা আঁকেন। এমনকি কে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেবে আর কে পাহারা দেবে সে দিক-নির্দেশনাও দেন চেয়ারম্যান। গত ২২ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিবগঞ্জ বাজারের পাশে অবস্থিত ডা. এমএ খালেক স্মৃতি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সামনে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নির্দেশে কামালকে কুপিয়ে জখম করেন রফিক, ফরিদ, জুনায়েদ, রুমেল, এবাদুর ও সাইফুল।

এ সময় পাহারায় ছিলেন ফরিদ, মধু মিয়া, পাভেল ও আবিদ মিয়াসহ কয়েকজন। কামাল মিয়াকে কুপিয়ে পালিয়ে যান তারা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, কামাল মিয়াকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছিল। তার শরীরে ৩০-৩৩ কোপ দেয়া হয়। এ ঘটনায় কামাল মিয়ার স্ত্রী রাজনা আক্তার বাদী হয়ে ২৫ জুলাই ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে মূল হোতা ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতারকৃতরা। নিহত কামাল মিয়া বানিয়াচং উপজেলার হলদারপুর গ্রামের মৃত মন্নাফ মিয়ার ছেলে। তিনি বড়ইউরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]