মসজিদে বিস্ফোরণ : ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করেনি তিতাস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

অডিও শুনুন

গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকেই গ্যাস জমে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তিতাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণ হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মসজিদ কমিটির অভিযোগ, ৯ মাস আগেই গ্যাসলাইনের লিকেজ মেরামতের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও ৫০ হাজার টাকার জন্য কাজ করেনি তিতাস।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার বলেন, ‘গ্যাসলাইন লিকেজ হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা মেরামত করার জন্য তিতাসকে জানিয়েছিলাম। তখন তারা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমরা টাকাটা জোগাড় করতে পারিনি বলে আর মেরামত করা হয়নি।’

এদিকে মসজিদে বিস্ফোরণের পর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী মোহাম্মদ আল মামুন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিতাসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় যদি কেউ দায়ী থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্যাসলাইনের লিকেজ ধরেই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব নূর হাসান। তিনি বলেন, আমরা আলামত সংগ্রহ করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। গ্যাস লিকেজ এবং বিদ্যুৎতের বিষয় মাথায় রেখেই আমরা তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজ চলাকালে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে একসঙ্গে ছয়টি এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৪০ জনেরও বেশি মুসল্লি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ওই মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।