ভাতিজার হামলায় প্রাণ গেল চাচার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

যশোরের মণিরামপুরে ভাতিজা পারভেজ হোসেনের (৩০) হামলায় চাচা অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসাশিক্ষক আব্দুস সাত্তারের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দুপর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসাকালে ভাতিজার হামলায় চাচা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত আব্দুস সাত্তার গোবিন্দুপর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম গোলদারের ছেলে। অভিযুক্ত পারভেজ নিহতের সেজো ভাই আব্দুল হামিদের ছেলে।

নিহতের ভাই হাফেজ জয়নাল আবেদিন গোলদার জানান, তাদের বাবা জীবিত থাকতেই বাড়ির ৮৫ শতাংশ জমি ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বণ্টন করে দেন। সে মোতাবেক তারা তাদের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কয়েক বছর ধরে সেজো ভাই আব্দুল হামিদ ও ছোট ভাই রোকনুজ্জামান বাবার বণ্টন অস্বীকার করে ফের জমি ভাগ করতে চান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই ভাইয়ের সঙ্গে অপর তিন ভাইয়ের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে পাঁচ ভাই ও তাদের সন্তানরা বিরোধ মীমাংসায় সালিশে বসেন। জুমার নামাজের পর ফের সালিশের একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার পর্যায়ে আসে। হঠাৎ মেজো ভাই আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সেজো ভাই আব্দুল হামিদের কথা কাটাকাটি হয়। এরই একপর্যায়ে আব্দুল হামিদ, ছোট ভাই রোকনুজ্জামান, আব্দুল হামিদের ছেলে পারভেজ ও সোয়াইব হোসেন তার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় তাকে (জয়নাল) রক্ষা করতে মেজো ভাই আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসলে পারভেজ তার বুকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে। এতে আব্দুস সাত্তার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়েছে।

মণিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভাতিজা পারভেজকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]