টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় ডুবে গেছে ১৭৫০ হেক্টর জমির ধান

জাহিদ খন্দকার জাহিদ খন্দকার গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

এ যেন অন্যরকম বৃষ্টি। ভোর থেকে দুপুর আর বিকেল থেকে রাত। থামাথামির নাম নেই। টানা বৃষ্টিতে কর্মজীবী মানুষ বিপাকে, হতাশাগ্রস্ত কৃষক। আমন ও সবজিক্ষেত পানির নিচে। টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় পঞ্চম দফায় দেখা দিয়েছে বন্যা।

পানিতে তলিয়ে গেছে ১৭৫০ হেক্টর জমির আমন ও ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি। এ অবস্থায় জেলা কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে করতোয়া নদীর পানি। তিস্তা ও যমুনা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই।

jagonews24

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিস্তা ও যমুনা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত গাইবান্ধা জেলা। একই সঙ্গে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া, কাটাখালি, বাঙ্গালি ও আলাইসহ আরও কয়েকটি নদী। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ও যমুনা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই।

দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জেলার নদীগুলোর পানি বেড়ে আগেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে আমন ও শাক-সবজিক্ষেত ডুবে যায়। পানি বৃদ্ধির ফলে যেকোনো সময় তিনটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মমিম বলেন, প্রায় তিন বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে আমন ধান এখন পানির নিচে।

jagonews24

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, চলতি বছর কয়েক দফায় বন্যায় আমার পাঁচ বিঘা জমির পাট নষ্ট হয়ে যায়। পরপর কয়েক দফায় পাট পচে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন চাষ করেছি। কিন্তু এবারও পাঁচ বিঘা জমির আমন ডুবে গেল।

সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ফরমান আলী বলেন, গত বছর বন্যায় বাঙ্গালি নদীবেষ্টিত সাঘাটার ত্রিমোহনী বাজার থেকে অনন্তপুর পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার ভেঙে যায়। এক বছরেও বাঁধ মেরামত করা হয়নি। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

এই ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ গ্রামের কৃষক আবুল ওয়াজেদ আলী বলেন, বৃষ্টি আর বন্যায় আমন ধান ও সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার কয়েকবার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হলো আমাদের। এখন বন্যার পানির নিচে আমন ধান।

jagonews24

সাঘাটার বুরুঙ্গী গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমার টমেটোর চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বররটি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ময়েন উদ্দিন আকন্দ বলেন, বৃষ্টি আর নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় পাঁচ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীবেষ্টিত তেঁতুলতলি বাজারের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে আমার শাক, ডাটা, বেগুন, মরিচ ও করলাক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

jagonews24

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি আর নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সাত উপজেলার এক হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি পচে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রণোদনা দেয়া হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা ও যমুনা নদী এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই।

এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]