রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্টে এবং অবৈধপথে বিদেশ যাচ্ছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
মানবপাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ নিয়ে অরিয়েন্টেশন সভা

মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে এখন পৃথিবীর বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্পের অবস্থান। ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার মাঝে সিংহভাগই নারী। এর ওপর উপকূল সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে দারিদ্র্যের কারণে এটি মানবপাচারের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাও। এসব বিষয় মাথায় রেখে মানবপাচার রোধে কক্সবাজারে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা জরুরি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের আবাসিক হোটেলের হলরুমে রাইটস যশোর নামে একটি সংস্থা আয়োজিত ‘মানবপাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দিনব্যাপী অরিয়েন্টেশন সভায় এ দাবি তোলা হয়।

শরণার্থীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় চলমান মানবপাচার প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় ‘রাইটস যশোর’ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, মানবপাচার আগেও ছিল, এখনও আছে। যদি পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো তবে ঘৃণ্য এই অপরাধে কেউ জড়াতো না।

বক্তারা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ দেশ থেকে পাচার হয়েছ ৫২৬ জন। যার মধ্যে ১৯১ জন পুরুষ, ৬৫ জন নারী এবং ৩৭ জন শিশু। পাচারের সময় সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩৩ জনকে। অথচ মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০১টি।

মানবপাচার মামলায় আটক হয়েছেন মাত্র এক দালাল। মানবপাচার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় দেশে পাচার বেড়েছে। কক্সবাজারেও বেড়েছে মানব পাচার মামলা। এখানে একটি মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল চালু হলে এ সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেত।

বক্তারা বলেন, জলসীমান্ত বিস্তৃত কক্সবাজার এমনিতে মাবনপাচারের নিরাপদ রুট। তার ওপর মিয়ানমারের সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান। এতে চরম ঝুঁকিতে আছে স্থানীয়রা। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্টে কিংবা অবৈধপথে বিদেশ যাচ্ছে। বিদেশে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে দোষটা এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর।

অনেক ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা বাড়ির কাজের জন্য রোহিঙ্গা কিশোরীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বাসাবাড়িতে নিচ্ছে বলেও খবর এসেছে। তাই মানবপাচার নিয়ে আগের দায়ের করা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

সভায় ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ভারতের আসাম এবং মিজুরামেও রোহিঙ্গাদের পাচার করা হচ্ছে। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সচেতন করা দরকার। ইউএনএইচসিআর ভারতে পাচার বেশকিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত এনেছে।

এতে বক্তব্য রাখেন- প্রকল্প পরিচালক প্রদীপ দত্ত, প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট তাহমিদ আকাশ।

২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত দেশে মানবপাচার মামলা হয়েছ চার হাজার ৬৬৮টি। যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৪৫টি মামলা। মানবপাচার প্রতিরোধে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করে বিচার কার্য দ্রুত করা জরুরি।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]