ট্রাকচালকের বিস্ময়কর প্রতিভা, মান্না দে’র মতো গাইতে পারেন সব গান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মান্না দে’র গানগুলো মান্নাদের মতোই হুবহু গাইতে পারেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদেরপুর গ্রামের বাসিন্দা আজমত আলী (৫৪)।

বাংলা আধুনিক গানের কিংবদন্তি শিল্পী মান্না দে’র সবগুলো গান মান্না দে’র মতো গাইতে পারায় আজমত আলীকে কুষ্টিয়ার সবাই ‘মান্না দে’ বলেই ডাকেন। অনেকেই গান শুনতে তার কাছে ছুটে যান।

‘আমি যে জলসা ঘরে বেলোয়ারি ঝাড়, কি দেখলে তুমি আমাতে, হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা রাতটা কে যে দিন করেছে, কফি হাউজের সেই আড্ডাটা, আবার হবে তো দেখা, এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি, তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়’ মান্না দে’র এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান হুবহু গাইতে পারেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজমত আলী। তিনি পেশায় ট্রাকচালক।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা না থাকলেও বড় ভাই আক্কাস আলীর কাছ থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে গান শেখা শুরু করেন আজমত আলী। অল্প বয়সে বিয়ে করে সংসারে জড়িয়ে যাওয়ায় কণ্ঠশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক আজমত আলী।

জীবিকার তাগিদে ট্রাক চালানোর পেশাকে বেছে নেন আজমত আলী। ব্যস্ততার মধ্যেও বিভিন্ন স্থান থেকে গান গাইবার আমন্ত্রণ পান তিনি। আমন্ত্রণ পেলে স্টেজ অথবা ঘরোয়া গানের আসরে মান্না দে’র গানগুলো পরিবেশন করেন আজমত আলী।

স্টেজ কিংবা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যখন আজমত আলী সুর তোলেন, ‘আমি যে জলসা ঘরে, কি দেখলে তুমি আমাতে, কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, ক ফোটা চোখের জল ফেলেছো তুমি, হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা, শাওন রাতে যদি, সে আমার ছোট বোন, সুন্দরীগো দোহাই দোহাই মান করোনা ও কাল কিছুতে ঘুম এলোনাসহ নানা গানের; তখন দর্শকদের মনে হয় গানগুলো মান্না দে গাইছেন।

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মান্না দে’র গান আজমত আলী যেভাবে হুবহু গাইতে পারেন তা সত্যিই বিস্ময়কর। আমাদের উচিত অজপাড়া গাঁয়ে অবহেলায় পড়ে থাকা আজমত আলীদের মতো প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহযোগিতা করা। আজমত আলীরা দেশের সম্পদ।

গান চর্চার বিষয়ে আজমত আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে মান্না দে’র গান শুনে গানের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। সেই থেকে মান্না দে’র গান তার মতো করে গাওয়ার চর্চা শুরু করি। হুবহু তার গানগুলো রপ্ত করতে অনেক সময় লেগেছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চার পর হুবহু মান্না দে’র গানগুলো গাইতে শুরু করি। এখন শ্রদ্ধেয় মান্না দে’র প্রায় সবগুলো গান হুবহু গাইতে পারি।

তিনি বলেন, স্থানীয়রা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান শুনে আমার প্রশংসা করেন। অনেকেই ভালোবেসে আমাকে এখন মান্না দে বলে ডাকেন। আমি চেষ্টা করি সুর ও তাল ঠিক করে মান্না দে’র গানগুলো হুবহু গাওয়ার। কারণ মান্না দে আমার ধ্যান ও জ্ঞান।

আজমত আলী বলেন, দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় অন্য কোনো শিল্পীর গান হুবহু গাইতে চেষ্টা করি না। সময় পেলে মাঝে মধ্যে গজল সম্রাট গুলাম আলী ও অনুপ জালোটার গান শুনি ও গাই। তবে অনুষ্ঠান কিংবা স্টেজ শোতে কেবল মান্না দে’র গানই গাই।

আল-মামুন সাগর/এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]