সিসিকের ৭৪৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৪৩ কোটি ৫৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণ করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। বাজেটে সমপরিমাণ টাকা আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে করোনাভাইরাসের কারণে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সিসিকের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ বাজেট ঘোষণা করেন। এতে জুম অ্যাপের মাধ্যমে সিসিকের কাউন্সিলরগণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন নাগরিক অংশ নেন।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটির নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বিগত কয়েক বছর যাবত বাজেট ঘোষণার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু এবারের বাজেট ঘোষণার সময় এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। করোনা মহামারি আমাদের ওলট-পালট করে দিয়েছে।

মেয়র বলেন, এই মহামারি আমাদের অর্থনীতিতে যে ধাক্কা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এই মহামারি আমাদের দেশের যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেই শূন্যতা অপূরণীয়। এই মহামারি অনেক পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত এসব পরিবারের কাছে ২০২০ সাল যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো আবির্ভূত হয়েছে। মূর্তিমান আতঙ্ক রূপে এই করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে আমাদের সিলেটেও, অকালে কেড়ে নিয়েছে আমাদের অনেক প্রিয়জনকে।

সেই কারণে বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই বলতে চাই, প্রতি বছরের রীতি অনুসরণ করেই এবার কেবলমাত্র বাজেট ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এবারের বাজেট ঘোষণার এই ক্ষণটি আমাদের কাছে বিষাদময়। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়েই আমরা বাজেট বক্তৃতার প্রথমেই পুরো বিশ্বে করোনা মহামারিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করছি।

নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং নগরবাসীর দোয়ায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন উল্লেখ করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ করোনায় সিলেটের বিশিষ্টজন ও নাগরিকদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়েরখাতগুলো হচ্ছে- হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ২০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কর ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের ওপর কর দুই কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার ওপর কর ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপনের ওপর কর এক কোটি ২৫ লাখ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহিতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফি বাবদ ২৫ লাখ টাকা, ঠিকাদারি তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফি বাবদ ৩০ লাখ টাকা, বাস টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৮০ লাখ টাকা, ট্রাক টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ১৫ লাখ টাকা।

এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ও দোকান ভাড়া বাবদ এক কোটি টাকা, রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ১০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় এক কোটি ২০ লাখ টাকা, রোড রোলার, ভ্যাকুয়াম ট্যাঙ্ক, ভিম লিফটার ও ক্রেন ভাড়া বাবদ ৮৫ লাখ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ বছরে ৪ কোটি টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনরায় সংযোগ ফি বাবদ এক কোটি টাকা, নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে।

নগরবাসী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ করলে ২০২০-২১ অর্থবছরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব খাতে ৮২ কোটি ২২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করেন মেয়র।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরীর পরিচালনায় বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সচিব ফাহিমা ইয়াসমীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল হক পাঠোয়ারী, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ.ন.ম. মনছুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]