২১ বছরের রেকর্ড ছাড়াল করতোয়ার পানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০

পঞ্চম দফা বন্যায় গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই পানির প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। যা ২১ বছর আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালে করতোয়ার পানির বিপৎসীমা ১০৪ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে গেছে।

এদিকে গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা, যমুনাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে।

jagonews24

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার বিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বগুলাগাড়ীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় সাঘাটা উপজেলায় আরও পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে গাইবান্ধার করতোয়া-কাটাখালী-বাঙালি নদীবেষ্টিত পলাশবাড়ী উপজেলার ১৫টি গ্রাম, গোবিন্দগঞ্জের ২৫টি গ্রাম, সাঘাটার ২০টি গ্রামসহ মোট ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, বন্যার কারণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঘোড়াঘাট উপজেলা হয়ে দিনাজপুর জেলায় যোগাযোগের আঞ্চলিক মহাসড়কটি বন্যার পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

jagonews24

পালাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা কাদের আলী বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কষ্ট বেড়েছে। আমরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের চান্দু মিয়া বলেন, এবারের বন্যায় আমার পাঁচ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। সামনের দিনে কী খাব নিজেও জানি না।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিতলা গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, উপজেলার বগুলাগাড়ীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধান, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর, ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, যমুনাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। যে কোনো সময় বিপদৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

jagonews24

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন বলেন, বন্যা নিয়ে হতাশার কিছু নেই। সরকার বন্যা কবলিতদের পাশে আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী, টানা বৃষ্টি আর নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সাত উপজেলার এক হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি পচে গেছে।

জাহিদ খন্দকার/আরএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]