পূজামণ্ডপে বরাদ্দ ৫৮ টন চাল ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন খাদ্য গুদাম থেকে ৫৮ টন ৫শ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশ গতকাল সোমবার বিকেলে এ গুদামটি শনাক্ত করে তা নজরদারিতে রাখে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হয়। এ পরিমাণ চাল দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২৫ লাখ টাকায় তা কালোবজারে বেচা-কেনা হয়। এ চাল কেনা-বেচা করে গুদামজাত করা আইনত অপরাধ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার পূজামণ্ডপের নামে বরাদ্দ করা চাল ঈশ্বরদীর একটি গুদামে মজুদ করা হয়েছে এমন সংবাদ তারা যায়। ২ দিন ধরে চেষ্টার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সীমা ট্রের্ডাস অ্যান্ড চাল কল নামের ওই গুদামটি শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ গুদামটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল গুদামটি।

সীমা ট্রের্ডাস অ্যান্ড চাল কল নামের ওই গুদামটির মালিক তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি তার এক ব্যবসায়ীক প্রতিনিধির মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া চাল ৩৯ টাকা কেজি দরে কিনে এনেছেন। যার মোট দাম প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম বলেন, চালগুলো আহার্য বাবদ দেয়া হয়। কোনো ব্যক্তি মালিকানায় এ চাল কেনার কোনো নীতিমালা নেই।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের চাল কেনা ও গুদামজাত সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া একবারে এতো টাকার চাল কিনে গুদামজাত করার কোনো বৈধতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবসা করে আসছেন। তিনি বিভিন জেলা থেকে কম দামে সরকারি চাল কিনে এনে নিজ গুদামে রেখে নতুনভাবে প্যাকেজিং করে বাজারজাত করেন।

এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা সীমা ট্রের্ডাস অ্যান্ড চাল কলের মালিক তরিকুল ইসলাম এর মালিকানাধীন গুদাম পরিদর্শন করেছেন।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দীন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চাল আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সরকারি চাল উদ্ধার করেছে। খাদ্য অধিদপ্তর অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। বিষয়টি তাদের বিভাগীয় আইন মোতাবেক তারা ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, পুলিশ সোমবার রাত থেকে ওই গুদাম পাহারা দিয়ে রেখেছে।

এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]